দেবীদ্বারে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে কারাগারে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
শফিউল আলম রাজীব, উপজেলা প্রতিনিধি - দেবীদ্বার, কুমিল্লা
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা আগস্ট ২০২২ ০৬:০৩ অপরাহ্ন
দেবীদ্বারে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে কারাগারে স্ত্রী

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঘুমন্ত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটার অভিযোগে‌ স্ত্রী হাজেরা বেগম (৩২)কে তার ৯ মাসের শিশু সন্তানসহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে সোহেল মিয়া(৩৫)'র সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী হাজেরার কলহ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে বুধবার দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে স্বামী সোহেল মিয়ার বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন হাজেরা। এ সময় সোহেল মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চান্দিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। একই সময় স্ত্রী হাজেরাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। আহত সোহেল রানা উপজেলার রাধানগর গ্রামের আওয়াল মাষ্টারের বাড়ির তৈয়ব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী সোহেলের পিতা তৈয়ব আলী বা‌দি হয়ে হাজেরা বেগমকে একমাত্র আসামী করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা চেস্টা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং৪ তারিখ-০৪/০৮/২০২২ইং।


সোহেল রানার পিতা তৈয়ব আলী জানান, আমার ২ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে সোহেল বড় সন্তান। প্রায় ১২ বছর পূর্বে এলাহাবাদ গ্রামের নৌল্যা পাড়ার আলী হোসেন এর মেয়ে হাজেরা বেগমকে বিয়ে করাই। বিয়ের পর থেকেই সোহেলকে তার স্ত্রী ফুসলিয়ে সংসার থেকে আলাদা করে নেয়। পরে নিমসার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে চলে যায়। সোহেল একটি ফলের আরতে চাকরি করে। কয়েক বছরে প্রায় ৮/১০ লক্ষ টাকা জমিয়ে এলাহাবাদ শ্বশুর বাড়িতে ২০ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে ওখানে অবস্থান করে। সংসারে বিরোধ দেখা দিলে সোহেল আমাদের বাড়িতে চলে আসে। ছেলে তার বাবার বাড়িতে থাকুক তার স্ত্রী এটা কখনো মানতে চায়না। শ্বশুর বাড়িতেও মারধর সহ্য করতে পারেনা। এ অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গোপনাঙ্গ কেটে দেয়।


আসামি হাজেরার ছোট ভাই আলম জানান, আমার বোনের ৪টি সন্তান রয়েছে, বিয়ের সময় ১লক্ষটাকা ও কানের জিনিস দিয়েছি। এরপর থেকে সে মাঝে মধ্যে টাকার জন্য আমার বোনকে মারধর করতো। তাদের মধ্যে সৃষ্ট ঝামেলা একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ দেবীদ্বার থানার এসআই শাহাদত ও এসআই সোহেল ভাই উপস্থিত থেকে সমাধান করেছেন। এছাড়া ব্রাক অফিসের মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করা হয়েছিলো। 


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে রক্ত মাখা একটি বঁটি দা উদ্বার করি এবং সেখান থেকে হাজেরা বেগমকে থানায় নিয়ে আসি।

  

দেবীদ্বার থানা ওসি কমল কৃষ্ণ ধর জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহেলের পিতা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আটক হাজেরা বেগমকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সোহেল-হাজেরা দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।