
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২
ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে 'মেসার্স কমান্ডার এ এ চৌধুরী' নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বড় ধরনের ছিনতাই অপারেশন চালানো হয়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে মোবাইল এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসায়ী মামুন উর রশিদ তার ভাগ্নে কামরুল হাসান সবুজের মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকা বুথে জমা দিতে পাঠান। সবুজ কারওয়ানবাজারে উত্তরা ব্যাংকের সামনে পৌঁছার পরপরই হঠাৎ এক তরুণ মোটরসাইকেল থেকে নেমে দ্রুত হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে কয়েকটি আঘাত করে।
এরপর ঘটনার দিন ভোর থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে জনি। সবাইকে হাতিরঝিলে জড়ো হওয়ার কথা জানায়। এর পরই সাগর ও শিহাব মোটরসাইকেল নিয়ে হাতিরঝিল চলে আসে। তবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাই অপারেশনে ব্যবহার করার জন্য 'সুইস গিয়ার' নামে একধরনের চাকু আনার কথা ছিল পাঠাওয়ের চালক শাকিলের। তবে সময় মতো শাকিল পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় সুইস গিয়ারের বদলে হাতুড়ি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয় শিহাব। বাইক ঠিকঠাক করার কথা বলে মধুবাগ এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে তারা হাতুড়ি সংগ্রহ করে কারওয়ান বাজারের দিকে যাত্রা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী টিসিবি ভবনের অদূরে মামুনের প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে টাকার ব্যাগসহ সবুজের বের হওয়ার ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার কথা ছিল জনির। সেই পরিকল্পনা মতে সকাল ১০টার দিকে শিহাব ও সাগরকে ফোনে সে জানায়- কালো রঙের শার্ট ও হাতে নীল ব্যাগ নিয়ে সবুজ টাকার ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। টিসিবি ভবন থেকে একটু দূরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ানো শিহাব কালো শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তির মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তবে আঘাত করার পর ওই ব্যক্তির কাছে কোনো ব্যাগ না দেখে অবাক হয় তারা।

মূলত জনির নেতৃত্বে তাদের বাসায় ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা হয়েছিল। নিয়মিত বখাটে বন্ধুদের নিয়ে ফ্ল্যাটে ইয়াবার আসর বসাত। এক লাখ টাকা পেয়েছিল সে। হাসান মূলত বখাটে বেকার তরুণ। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। হাসানের পকেটে যায় এক লাখ টাকা। সাগর মোটরসাইকেল গ্যারেজের মেকানিক। ছিনতাইয়ে ব্যবহূত মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল সাগর। সাগর পায় পাঁচ লাখ টাকা। পরিকল্পনায় জড়িত নাহিদ ব্যবসায়ী মামুনের ফুফাতো শ্যালক। নাহিদ পেয়েছিল আট লাখ টাকা। শিহাব গুলশান কমার্স কলেজে ছাত্র। তার ভাগে পড়ে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া অর্থের একটি ভাগ মামুনের আপন ভাই জসীমের পকেটেও গেছে।
হাসানের সঙ্গে তার বান্ধবী কক্সবাজারে অবস্থান করছে- এটা জানার পর রাসেল কক্সবাজারে চলে যায়। তখন রাসেল ও হাসানের মধ্যে বিরোধ হয়। এরপর ঢাকায় আরেক বান্ধবীকে ডেকে পাঠিয়ে রাসেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে হাসান ও তার বন্ধুরা। এই গ্যাং ১১ দিন বেহিসাবি খরচ করতে থাকে। দামি জিনিসপত্র ও কসমেটিক কেনাকাটা ছাড়াও সারাদিনের জন্য গাড়িও ভাড়া নেয় তারা। ১১ দিনেই পকেটের দৈন্যদশা ফিরে আসার পর ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেয় ওরা।