প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৭

পিরোজপুরের কাউখালী-স্বরূপকাঠি সড়কের কচুয়াকাঠী খালের উপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজের উপরের স্টিলের পাটাতনগুলো আলগা হয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম বিপদের মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই ব্রিজ পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, অপরিচিত চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
সরাসরি পরিদর্শন করলে দেখা গেছে, ব্রিজের মাঝখানের পাটাতনগুলো স্থানচ্যুত হয়ে ফাঁক তৈরি করেছে এবং অনেক জায়গায় মরিচা ধরে ভেঙে পড়েছে। কয়েক মাস অন্তর জোড়া তালি দিয়ে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। ভারী যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক বা পরিবহন চলাচল তো দূরের কথা, ছোট আটো বা রিকশা চলাচলের সময়ও ব্রিজটি বিকট শব্দে কাঁপছে, যা পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়াও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। একইভাবে আটো গাড়ি চালক আবুল হোসেন জানান, ব্রিজের বর্তমান অবস্থার কারণে নিয়মিত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার বা নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণ না করলে সড়ক যোগাযোগ যে কোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং অবিলম্বে ব্রিজটি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সর্তকতা ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিজটি নিরাপদে চলাচলের উপযোগী করা হবে।
এটি শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য। দ্রুত সংস্কার করা না হলে কাউখালী ও স্বরূপকাঠি সড়কের যাতায়াত প্রভাবিত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও সরকারের সহযোগিতায় এটি পুনরায় শক্তিশালী করে যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণ দ্রুত শুরু করা উচিত।