
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৭

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের পতিত ও অনাবাদি জমিতে সরিষার চাষ এবছর চাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন জলের নিচে ডুবে থাকা জমিগুলোতে এবার প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন বৃদ্ধি পেয়ায় হাওরপাড়ের কৃষকেরা নিজের চাহিদা মিটিয়ে তা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সরিষার হলুদ ফুল হাওরের বিস্তীর্ণ জমিকে ঢেকে দিয়েছে এবং এই দৃশ্য স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও মুগ্ধ করছে। চাষিরা বলছেন, পতিত জমিতে সরিষার চাষ আগের তুলনায় অনেক বাড়ছে এবং এতে তাদের দিন কাটছে ফসলের পরিচর্যায়।
সরিষার সঙ্গে অনেকেই মৌ চাষও করছেন। মৌমাছিরা সরিষার ফুল থেকে ফুলে উড়ে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঘটাচ্ছে, যার ফলে ফসলের ফলন আরও ভালো হচ্ছে। হাওরের হাল্লা অঞ্চলে পুরো এলাকা এখন হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে। সরিষার ফুলের মধ্যে চাষিরা ঘাস ও আগাছা বাছার কাজ করছেন, কেউ আলপথ ঘুরে ফসল পর্যবেক্ষণ করছেন। বিকালের আলোতে ফুলগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে ফুটছে এবং বাতাসে ছড়িয়ে আছে সরিষার শান্ত, মৃদু ঘ্রাণ।
স্থানীয় সরিষা চাষিরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে তারা হাওরের পতিত জমিতে সরিষা চাষ করছেন। ভালো ফলন এবং কম খরচে উৎপাদনের কারণে কৃষকেরা ভালো মুনাফা করছেন। প্রতি মণের দাম বর্তমানে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। শুকনো গাছ বর্ষাকালে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং খৈল হিসেবে পশুর জন্যও কাজে আসে। সরিষার পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি মিটাতেও এটি সহায়ক।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর হাওরের সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড়লেখা উপজেলায় গত বছর দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল, যা এবছর ৬১৩ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার প্রতি হেক্টরে সরিষার উৎপাদন এক দশমিক ৪২ মেট্রিক টন। সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে বড়লেখার সোজানগর, তালিমপুর ও বর্ণি ইউনিয়নে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনোয়ার হোসেন জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তার ফলে সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আগ্রহী চাষিদের জন্য সব ধরনের পরামর্শ এবং সহায়তা দেওয়া হবে। পতিত জমির এই চাষ হাওরের পুরো এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় কৃষকের আয় বাড়াবে।
সরিষা চাষ এখন হাওরের এক সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে চাষিরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন না, বরং হাওরের পতিত জমি উৎপাদনশীল করে তোলা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে সরিষা চাষের এই প্রবণতা আরও বাড়বে এবং হাওরের অর্থনীতি ও কৃষিজীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
সরিষার হলুদ বন্যায় মাতোয়ারা হাওরপাড়ের কৃষক এবং পর্যটকরা একে দেখে আনন্দে মুগ্ধ হচ্ছেন। প্রতিটি হেক্টর জমিতে সরিষার ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা আত্মনির্ভরতা ও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা হাওরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।