
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৮

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দান মাঠে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেলুন উড়িয়ে ভোটের গাড়ি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণভোট জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন, যেখানে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থকে উপেক্ষা করে দেশকে জয়ী করা হবে।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষকে ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা জরুরি। অনেক মানুষ প্রশ্নগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারছে না, তাই আমরা বারবার জনগণকে ভোট প্রক্রিয়া ও দেশের ভবিষ্যতের গুরুত্ব বোঝাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে ভোট দেওয়া মানে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্র জিতবে। তাই ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের মৌলিক সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই তিনটি দেশের মেরুদণ্ড, যা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে দেশের সাধারণ মানুষই সবকিছুর সুফল ভোগ করবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণ নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
জনগণকে ভোটের বার্তা পৌঁছে দিতে রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ভোটের রিকশা রাখা হয়েছে, যেখানে মাইকিং-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ভোটের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতার ভারসাম্য, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।
উদ্বোধন শেষে একটি রঙিন র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, জেলা পুলিশ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য তাদের শক্তি প্রমাণ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি সবাইকে দেশের মঙ্গলের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশ নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন, পরিবর্তনের পথে এগিয়ে চলতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
নাগরিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্যকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।