
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমান উল্লাহ্। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মধ্য নগর এলাকার প্রয়াত নূর আলমের পুত্র নূর হোসেন মাহিমের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
জানা গেছে, মধ্য নগর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূর হোসেন মাহিম দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছিল। পারিবারিক অভিভাবক হারানোর পর অর্থাভাবের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নজরে আসার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন আমান উল্লাহ্।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাহিমের শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় বহন করার সিদ্ধান্ত নেন। মাহিম যাতে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীটি এ কারণে নতুনভাবে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
আমান উল্লাহ্ তার উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি। আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেটাই আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

স্থানীয় এলাকাবাসী তার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, এ ধরনের মানবিক সহায়তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করে না, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া এটি সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আমান উল্লাহ্’র উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ও আশাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। মাহিমের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী এবং অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই মানবিক সহায়তা সমাজে দায়িত্বশীলতার চেতনা বাড়াবে এবং অন্যান্য মানুষকেও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।
আমান উল্লাহ্’র এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় সমাজে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।