
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব বাহিনী একত্রিত হয়ে ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সম্প্রতি ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য এবং এটি নিন্দার যোগ্য।
মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করতে সকল বাহিনী একযোগে অভিযান চালানো হবে।
শফিকুল আলম আরও বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের ক্ষমতা যতই বেশি হোক না কেন, প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া লুট করা অস্ত্রও পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হবে।
প্রেস সচিব জানান, গত সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চলাকালে সশস্ত্র এক সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়। ফেরার পথে র্যাব সদস্যরা সন্ত্রাসীদের গুলিতে আক্রান্ত হন, যার ফলে র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব নিহত হন। এই ঘটনার পর পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযানে নামে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
প্রেস সচিবের মতে, কম্বাইন্ড অপারেশন শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং বাহিনীর সদস্যদের মনোবল আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জায়গা সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শফিকুল আলম জানান, অভিযান চলাকালীন সময়ে সকল বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে করে জনসাধারণের সঙ্গে মিল রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কম্বাইন্ড অপারেশনের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকা থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল সম্ভব হবে এবং এলাকাবাসী স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করতে পারবে।