প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৬

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ, বাসরঘরে নতুন জীবনের শুরু—সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পরই অভিযোগ ওঠে, বিয়ের আগে যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল তিনি নন এই কনে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আনন্দঘন পরিবেশ রূপ নেয় সন্দেহ, অভিযোগ আর আইনি লড়াইয়ে। ঠাকুরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায়। এখানেই বিয়ে হয় রাণীশংকৈলের বাসিন্দা জিয়ারুল হকের মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ায় আদালত ও কারাগার পর্যন্ত।
ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টা জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
দুই পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।
রায়হান কবিরের মামা বাদল অভিযোগ করে বলেন, ঘটকের মাধ্যমে পাত্রী দেখানো হয়েছিল একটি চায়ের দোকানে। সেই মেয়েকেই পছন্দ করা হয়। পরে মেয়েপক্ষ নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। বিয়ের রাতে অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিষয়টি ধরা পড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান কবির বুঝতে পারেন, তিনি অন্য একজন। প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে পরদিন কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে কনে বদল করা হয়েছে।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছেলেপক্ষ বাড়িতে এসে মেয়েকে দেখে গেছে। বিয়েতে বহু বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। এমন অবস্থায় কনে বদলের অভিযোগ অবাস্তব। তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর যৌতুক দাবি করা হয়েছিল, যা না দেওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ভিন্ন মেয়ে দেখাননি। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় উভয় পক্ষই আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।