প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২০
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর ভূমি অফিসে সেবা প্রত্যাশীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অবহেলা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং তহশিলদারের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সাধারণ কাজও শেষ করতে মাসের পর মাস সময় লাগছে।
আনিছুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসে কোনো কাজ করতে গেলে ঘুরপাক খেতে হয়। একটি সাধারণ কাগজ তোলার জন্যও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রতিবার ভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মোঃ ইমদাদুল হোসেন অভিযোগ করেন, জমির খাজনা দিতে গেলেও নানা অজুহাতে কাজ হয় না। কখনো বলা হয় ফাইল নেই, কখনো কর্মকর্তা অনুপস্থিত। মোছাঃ উম্মে খাতুন বৃষ্টি বলেন, খাজনা দেওয়া হয়েছে অথচ তার নাম জারির কাজ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, তহশিলদারের কম্পিউটার অক্ষমতা ও বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করানোর কারণে সমস্যার মাত্রা বেড়েছে।
মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় মানুষ দালালের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো ফলাফল পাননি। মোঃ মোলায়েম হোসেন অভিযোগ করেন, সমস্ত অনলাইন খারিজ ও খাজনা পরিশোধ করা হলেও নানা অজুহাতে কাজ শেষ হচ্ছে না এবং রাতে তদন্তের নামে কাজ করা হচ্ছে, যা সন্দেহজনক।
শাহিদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, চারবার খারিজের আবেদন করার পরও কাজ হয়নি, অথচ একই দাগের অন্যদের খারিজ হয়ে গেছে। এতে বোঝা যায় যে ইচ্ছে করেই হয়রানি করা হচ্ছে।
হাকিমপুর পৌর তহশিলদার মোঃ জিল্লুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিসে প্রচুর কাজের চাপ থাকে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করি এবং কাউকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। নবাগত হাকিমপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাব্বির হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জানে আলম বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রমাণিত অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীরা মনে করেন, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট সেবা চালু না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ হবে না। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।