জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের কোকতারা এলাকায় শাখা যমুনা নদীর পাড়ে একাধিক প্রকারের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারিক চৌধুরী এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকারের আশায় পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত মহরুম চৌধুরীর ছেলে বারিক চৌধুরী দীর্ঘ প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে পরিত্যক্ত যমুনা নদীর পাড়ে কলা, ইউক্যালিপ্টাস, সজনা, কদম ও আমগাছসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এর ফল ভোগ করে আসছিলেন। গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে একই উপজেলার নওদা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মাহাবুব (৫২), মৃত বৃষ্টি মন্ডলের ছেলে জাহিদুল এবং কোকতারা গ্রামের মৃত মন্টু মিয়ার ছেলে আজাদুল ইসলাম গাছগুলো কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বারিকের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তার রোপণ করা প্রায় ১০০টি কলাগাছ, ১০০টি সজনা গাছ, ৫০-৬০টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ, ৩০-৪০টি কদম গাছ এবং ১০-১৫টি আমগাছ কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় তিনি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুল দাবি করেন, “নদীর পাড়ের জমিগুলোর মালিকানা আমাদের আছে, দলিলপত্রও রয়েছে। গাছগুলোও আমরা রোপণ করেছিলাম। বারিক চৌধুরী জোর করে সেগুলো কেটে নিয়ে গেছেন।”
এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম জানান, “গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এখন পর্যন্ত থানার পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, শাখা যমুনা নদীর পাড়বর্তী জমিগুলো সরকারি না ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ নিয়ে পূর্বেও বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বারিক গাছ রোপণ করে ফল ভোগ করলেও মালিকানা সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত নথিপত্র স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।