প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২২:৪
গাজীপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ধীরাশ্রম ও দাক্ষিণখান গ্রাম থেকে পুরুষরা গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে গেছে। গাজীপুরসহ সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পুলিশি অভিযানের খবরে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলার পর।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়ির প্রধান ফটকটি বন্ধ ছিল এবং ফটকের সামনে কাঁচ ভাঙা টুকরা ও সম্মাননা স্মারক পড়ে ছিল। আশপাশের বাড়িগুলোর গেটও বন্ধ, এবং রাস্তায় চলাফেরা ছিল খুবই কম। এলাকার অধিকাংশ পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাগুলো থেকে চলে গেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছাত্রদের ওপর হামলার পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে গ্রাম ছেড়েছে। শুধু বয়স্ক নারীরা বাড়িতে আছেন, কিন্তু পুরুষদের খোঁজ মিলছে না। গ্রামে শান্তি ভঙ্গের কারণে সবার মধ্যে ভয় এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় মসজিদও তালাবদ্ধ ছিল এবং সব দোকানপাট বন্ধ ছিল।
এদিকে, এক দোকানদার জানিয়েছেন, ছাত্ররা আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে লুটপাট করতে যায়নি, বরং তারা ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে গিয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা ছাত্রদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে এবং তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বাধা দেয়। এই হামলার পর, গ্রামবাসী গোপনে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়।
গাজীপুরে অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ৩৫ জন এবং জেলা পুলিশ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদেরকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে গ্রামে পালিয়ে যাওয়া পুরুষদের এখনও খোঁজা চলছে। গাজীপুরের পরিস্থিতি এখনো থমথমে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গাজীপুরের বেশ কয়েকটি থানায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হামলার সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি পুলিশের অভিযানের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়েছে।