প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ২৩:৪৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনে শেখ তানিয়া বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত তানিয়া উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের মনিবাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
সন্তান ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তানিয়ার স্বামী উজ্জল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ করে ভারি বস্তু দিয়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন তিনি। রাতভর নির্যাতনের পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
সন্তানরা মায়ের নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরদিন সকালেও তানিয়াকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তার বড় মেয়ে জয়া ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তানিয়া মারা যান। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তানিয়াকে হাসপাতালে পাঠায়। তার স্বামী উজ্জল মিয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় তানিয়ার পরিবারের সদস্যরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এমন বর্বর ঘটনার ন্যায়বিচার চান এবং উজ্জল মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উজ্জল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তানিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন, তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তানিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।