প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩:১৯
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৪১ নম্বর যদুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও দুরাবস্থার শিকার। বিদ্যালয়টির চত্বর নিচু এবং যাতায়াতের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়টি ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিল, মৎস্য ঘের এবং খাল-জলাশয়ের মাঝে অবস্থিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে স্কুল চত্বর ও যাতায়াতের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। গত বর্ষায় প্রায় দুই মাস ধরে চত্বর জলমগ্ন ছিল। শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুলে আসতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হয়। মাঠে পানি থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপসী সরকার জানান, বর্ষার সময় স্কুলে যাওয়ার দুইটি প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণ ডুবে যায়। টেংরাখালী হাইস্কুল থেকে যদুয়ারডাঙ্গা স্কুল পর্যন্ত অর্ধ কিলোমিটার মাটির রাস্তা এবং যদুয়ারডাঙ্গা বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। শুষ্ক মৌসুমেও এবড়ো-থেবড়ো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। তিনি আরও বলেন, স্কুলে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই। টিউবওয়েলের পানি লবণাক্ত এবং আর্সেনিকযুক্ত হওয়ায় বাইরে থেকে পানি কিনে আনতে হয়।
২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন অপসারণ করে একটি নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে দ্বিতীয় তলার বারান্দায় গ্রীল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এছাড়া নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর টিকিয়ে রাখতে এবং ভবনের আশপাশে সৌন্দর্য বাড়াতে যে ফুলের বাগান করা হয়েছিল, তা বর্ষার লোনা পানির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন জানান, বিদ্যালয় চত্বর ও মাঠ উঁচু করতে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এলাকাবাসী দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
**ক্যাপশন:** আশাশুনির যদুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বর ও রাস্তার বেহাল দশা।