
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ২:৫

আশাশুনিতে ভিলেজ ইনটিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ভিডা) সংস্থার বিরুদ্ধে কর্মীদের ভাতার প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংস্থার কর্মী আসমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভিডা সংস্থায় কর্মী হিসেবে যোগ দেন আসমা খাতুন, লিপিকা, মর্জিনা খাতুন, রজনী সরকার, ডলি বালা, রহমত, রাজিয়া, আঁখি ও অন্যান্যরা। তাদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার চুক্তি করা হয়। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিজিডি উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। তবে অভিযোগকারীরা জানান, মাস শেষে তাদের নির্ধারিত ভাতা কখনো ২৫০০ টাকা, কখনো ৩০০০ টাকা, আবার কখনো ৩৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে, ফলে মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকারও বেশি ভাতা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া, টাকা মোবাইলের মাধ্যমে পাঠানো হলেও কোন সহি-স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি, যা প্রমাণ করে এটি প্রতারণা মূলক কার্যক্রম। এই পরিস্থিতিতে কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাদের পারিবারিক জবাবদিহিতার সামনে পড়তে হচ্ছে। তারা জানান, নিয়মিতভাবে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কাজ করলেও ভাতা থেকে বড় অংকের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, কেন কর্মীদের ভাতা কেটে রাখা হচ্ছে? তারা অভিযোগ করেন যে, কেটে নেওয়া টাকার একটি অংশ কর্মকর্তাদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়, এবং একাধিকবার প্রতিবাদ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।


অভিযোগকারীরা জানায়, তারা প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোন ফলপ্রসূ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এরপর গত ২১ নভেম্বর মহা পরিচালক, উপ পরিচালক ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ভিডা সংস্থার সুপার ভাইজার ও পরিচালককে বারবার ফোন করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, ভিজিডি উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণের জন্য তাঁরা কর্মীদের নিয়োগ দেন এবং প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু ৫০% এর বেশি কাজ তারা করেননি, যার ফলে ভাতা কম দেওয়া হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেয় এবং কর্মীদের ভাতার টাকা তাদের পাওনা ফেরত পাবে কিনা।