
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১:৪৫

উত্তর জনপদের শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাট-বাজারগুলো শীতকালীন তাজা সবজিতে ভরপুর হলেও বর্তমানে এর দাম বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া এবং নি¤œ আয়ের মানুষজন এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন। এ বছর শীতকালীন সবজির বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি, যা গ্রাম্য বাজারগুলোতেও ক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে শনিবার উপজেলার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। নতুন আলু ১৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, মুলা ৩০-৪০, পুঁইশাক ২০-২৫, শিম ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, বরবটি ৮০-১০০ টাকা, সাদা বেগুন ৬৫-৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া।
এছাড়া, টমেটো ৬০-৮০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা, রসুন ২১০-২৩০ টাকা, শিম ৮০, মটরশুঁটি ১০০-১৩০ টাকা, করলা ১০০ এবং কাঁকরোল ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে দাম কমিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। ভবানীপুর বাজারের ব্যবসায়ী নয়ন বলেন, "এবার পাইকারি বাজারে সবজির দাম কিছুতেই কমছেই না, তাই আমরা কমিয়ে বিক্রি করতে পারছি না।"
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

ক্রেতারা এ পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ। সাব্বির আহমেদ নামের এক ক্রেতা বলেন, "শীতের সময় সবজির দাম কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে পরিবার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।"
উপজেলার চৌবাড়ি থেকে বাজার করতে আসা মো. জব্বার বলেন, "বাজারে সব কিছুর দাম বেশি। মনে হচ্ছে, আমদানি কম হওয়ার কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া, ভারতীয় পেঁয়াজ না থাকায় দেশি পেঁয়াজের দামও অনেক বেশি।"
বিক্রেতারা জানান, কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সবজির দাম বাড়ছে। ভবানীপুর বাজারের ব্যবসায়ী দেল মোহাম্মদ বলেন, "সবজির দাম অন্যবারের তুলনায় বেশি। তবে সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। আবহাওয়ার কারণে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাই দাম বেড়েছে। তবে আশা করছি, ১০-১২ দিনের মধ্যে দাম কমে যাবে।"
এভাবে শীতকালীন সবজির দাম বৃদ্ধির কারণে নি¤œ আয়ের মানুষজনের জীবনযাত্রায় চরম চাপ পড়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ মেটাতে পারলেও, ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব পণ্যের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম নিশ্চিত করা যায়।