
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৫

ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় এসেছেন। জানা গেছে, তিনি টাকার বান্ডিলকে জাজিম বানিয়ে ঘুমাতেন এবং স্বর্ণের নৌকা নিয়ে অত্যন্ত অভিজাত জীবনযাপন করতেন।
দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে যে, আমুর সহকারী ও ভায়রা ফখরুল মজিদ কিরন তার অবৈধ আয়ের দেখাশোনা করতেন। কিরন সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূনের ভাই। আমুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি পদে থাকার সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারি কাজে দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি বরাদ্দের কাজের জন্য চাঁদা দাবি করতেন এবং স্থানীয় টেন্ডার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আমুর নামে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট, সাভারে জমি এবং মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক প্লট তার নামের রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে আরও বিপুল সম্পদ থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে।


স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আমু তার ভায়রার মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের কাজ করতেন, যা তাকে অসংখ্য দুর্নীতির সুবিধা দিত। আমুর প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করা সম্ভব ছিল না।
এদিকে, ৫ আগস্ট রাতে তার বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে বিপুল পরিমাণ টাকা ও ডলার-ইউরো লুট হয় এবং সেখানে আগুন দেওয়া হয়। সেই সময় প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়।
দুদক এখন অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমির হোসেন আমুর অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে প্রস্তুত। তারা ঘোষণা করেছেন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।