
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৭:১৯

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তির একসঙ্গে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অনুমতি নেই। তবে এই নিয়ম অমান্য করে একই সময়ে দুই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন সোহাগ হাওলাদার। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক পদে কর্মরত, পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবেও কাজ করছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোহাগ ২০২১ সালের ১ নভেম্বর অফিস সহায়ক পদে যোগদান করেন এবং বর্তমানে ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে কর্মরত আছেন। গত ২০ জুন তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে ৪ জুলাই অফিসে যোগ দেন এবং বর্তমানে নিয়মিত অফিস করছেন।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, সোহাগ সরকারি চাকরির আবেদনের সময় তার গোপন চাকরির বিষয়টি অবহিত করেননি। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী চলতি বছরের ১৩ মে পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পান। পরবর্তী সময়ে ২ জুন তিনি ডিএসসিসিতে যোগদান করেন। তবে, ৭ জুলাই থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
জানা যায়, ২৪ জুলাই অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম কর্তৃক পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, সোহাগ পারিবারিক কারণে ছুটিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি শেষে কর্মস্থলে উপস্থিত না হলে মোবাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, "সোহাগ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

সোহাগ হাওলাদার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "আমি সিটি করপোরেশনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি এবং গত ১৮ আগস্ট স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন জমা দিয়েছি।" তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কেন তিনি চাকরি রেখে গোপনে অবসর নেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছেন।
ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, "এমনটি হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলার অভাব প্রকাশ পেয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোহাগের ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।