
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৭:৬

উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল হেলালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ ১১ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার সময়ে স্কুলের ক্লাস না করিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই বেতন ও সম্মানি ভাতা নিয়েছেন।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল হেলাল ১৯৯৫ সালের ২০ এপ্রিল হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০১১ সালে সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। টানা দুইবার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে, তিনি ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্কুলে কোন ক্লাস নেননি, তবে নিয়মিত বেতন ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানি ভাতা গ্রহণ করেছেন।
স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, হেলাল স্যার চেয়ারম্যান থাকাকালীন কখনোই ক্লাস নেননি, যদিও মাঝে মাঝে স্কুলে আসতেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তমাল কান্তি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, হেলাল স্যার ক্লাস না করলেও, তার বদলে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো নীতিমালা অনুযায়ী, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক একসঙ্গে দুইটি চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা ২০১৮ ও ২০২১ অনুযায়ী, একইসঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে নিয়োজিত থাকলে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে, আব্দুল্লাহ আল হেলালের অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একসঙ্গে দুটি পদে থেকে উভয় থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা এবং সাবেক ইউপি সচিব দীপক কুমার শর্মা এ বিষয়ে বলেন, হেলাল স্যার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানি ভাতা নিয়েছেন এবং সব ডকুমেন্ট ইউনিয়ন অফিসে রয়েছে। সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সচিব হিমাদ্রী দেবও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল হেলাল দাবি করেছেন যে, ২০১১ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সম্মানি ভাতা গ্রহণে কোনো বাধা নেই। তবে, আইনজীবী নিয়ামুল হক জানান, হাইকোর্টের রায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বা সম্মানি ভাতা সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই এবং শিক্ষক হেলাল মিথ্যাচার করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রবিউল ইসলাম জানান, এক ব্যক্তি দুই জায়গা থেকে বেতন গ্রহণ করতে পারবেন না এবং দীর্ঘ বছর ক্লাস না করে বেতন গ্রহণ করা অনিয়ম। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।