
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:৪০

সিলেটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্প্রতি একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে সচেতন মহলে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি এবং প্রধানদের পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা রীতিমতো রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সিলেটের অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় জোরপূর্বক প্রধানদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কিছু অতি উৎসাহী ছাত্রদের দ্বারা শারীরিক হামলা এবং হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বিরোধী সদস্যরা ছাত্রদের ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে জানা যায়।
সম্প্রতি, সিলেটের ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এরশাদ আলী এবং ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুসনে আরা বেগম পদত্যাগে বাধ্য হন। ব্লু-বার্ড স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক দীপক চৌধুরী বুলবুলকে ছাত্রদের আক্রমণের মুখে পালাতে হয়। শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তারা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত।
এছাড়া, কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও অফিস কক্ষ ঘেরাও করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমী, গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ আতারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাদেপাশা ইউনিয়নের মফজ্জিল আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সর্বশেষ, গোলাপগঞ্জ কুড়ির বাজার ভাদেশ্বর মডেল ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শোয়াইবুর রহমানকে ছাত্রদের মারধর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

এ ঘটনার পর প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি সেভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবকহীনতা দেখা দিয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষকদের সাথে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা উচিত, পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা নয়।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম মন্তব্য করেন, “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফলস্বরূপ অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে, কিন্তু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন আচরণ অযৌক্তিক। অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”
এক অভিভাবক জানান, “এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।”
সিলেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।