
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৪:১০

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের শফিকাজীর মোড়ে অবস্থিত আরশেদ পাগলার মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় তৌহিদী জনতার একাংশ এই হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশেকান ভক্তরা আরশেদ পাগলাকে পীর হিসেবে দাবি করে আসছিল এবং মাজারে এসে তাকে সেজদা দিত। এই আচরণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। আরশেদকে সেজদা দেওয়াকে ইসলামবিরোধী মনে করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরে মাজারে অগ্নিসংযোগ করে। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মাজারটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে জানান, ‘‘তৌহিদী জনতা আরশেদ পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে এবং পরে মাজারে আগুন লাগানো হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।’’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় মাজারের আশেপাশে তৌহিদী জনতা ও আশেকান ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মাজারের ভক্তরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তারা বলছে, মাজার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।