
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৬:২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ফজলে করিম চৌধুরী আখাউড়ার গাজীরবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এসময় বিজিবি সদস্যরা তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়। আখাউড়া সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতায় তাঁর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল, বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন অপরাধী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এই প্রেক্ষাপটেই ফজলে করিম চৌধুরীর পালানোর চেষ্টা সফল হয়নি।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন, সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষিতে আত্মগোপনে ছিলেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি এবং আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও রাউজান থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ সম্পর্কিত অভিযোগ।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর এই অবৈধভাবে পালানোর প্রচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁকে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফজলে করিম চৌধুরীর এই আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা এবং পালানোর প্রচেষ্টা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হবে যাতে কোনো ধরনের অপরাধী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি অবৈধভাবে দেশত্যাগ করতে না পারে।