
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০:৫৮

নেত্রকোণা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খানকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ জানান, নজরুল ইসলাম খান নেত্রকোণা জেলা শহরের চকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি নেত্রকোণা পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র। তিনি ছিলেন সাবেক এম এন এ মরহুম আব্বাস আলী খানের ছেলে। ইমিগ্রেশন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর তার নামে একাধিক মামলা থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নজরুল ইসলাম খান দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন এবং সেই সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের নিয়মিত যাচাইকালে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়টি উঠে আসে। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে আটক করা হয় এবং বিষয়টি নেত্রকোণা জেলা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ আরও জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। তাকে ঢাকা থেকে নেত্রকোণায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার মধ্যে দুটি পুরনো এবং একটি সাম্প্রতিক সময়ের নাশকতার মামলা। নাশকতার মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

নজরুল ইসলাম খান নেত্রকোণার রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পৌরসভার মেয়র হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনীতিক জীবন বেশ সমৃদ্ধ এবং নেত্রকোণার উন্নয়নে তার অবদান রয়েছে বলে মনে করা হয়।
নজরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে নেত্রকোণায় আনার পর তাকে স্থানীয় মডেল থানায় নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং আদালতে তোলা হবে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, নজরুল ইসলামের আটকের ঘটনায় নেত্রকোণার রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার সমর্থকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নজরুল ইসলামের এই আটকের পর নেত্রকোণার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দের পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।