
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০:৪৯

চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনকে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১ এর একটি দল বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাজহারুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে তদন্ত চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-নেত্রী আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হলেও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হন।

এরই ধারাবাহিকতায়, ১৩ আগস্ট সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর একে একে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, এবং কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি গ্রেপ্তার হন। তাদের পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের মামলার ভিত্তিতে র্যাব ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মাজহারুল ইসলামের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আগের আমলের অনেক নেতার দুর্নীতির কাহিনী সামনে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।