
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২১:৫৩

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা ৬৫টি আম চারা কেটে ফেলেছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ মুসুল্লীয়াবাদ গ্রামের জেলে নজীর মাঝির ছেলে সোহেল বন বিভাগের জমিতে ৭৫টি আম চারা রোপণ করেন। মঙ্গলবার রাতের আধারে, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ৬৫টি চারা কেটে ফেলে। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে এভাবে আম গাছের চারা কেটে ফেলা অপ্রত্যাশিত এবং অযৌক্তিক কাজ। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
বাগান মালিক সোহেল অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে প্রতিবেশী বশির, সোহেল, বেল্লাল, আনছার ও কালামসহ কয়েকজন রাতের আধারে আমের চারা কেটে ফেলেছে। সোহেল জানান, তিনি সাগরে মাছ শিকার করে টাকা জমিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ করে আমের চারা রোপণ করেছিলেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
সোহেলের বাবা নজীর মাঝি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। চলতি মাসে প্রতিবেশীরা হামলা করে তাঁর ওপর মারধর করেছে এবং বাড়িঘরও ভাঙচুর করেছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তাঁর ছেলের আমের চারা কেটে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেশী আবুল হোসেন বলেন, সকাল বেলায় খবর পেয়ে এসে দেখেন সোহেলের বাগানের আমের চারা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ খুবই নিন্দনীয় এবং এর কঠোর বিচার হওয়া উচিত।
অভিযুক্ত কালাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমের চারা কেটে ফেলার ঘটনা তারা জানেন না এবং তাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারী দলের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে।
পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম জানান, তিনি শুনেছেন রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার সোহেলের আম গাছের চারা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই জমি বন বিভাগের অধীনে, এবং নজীর মাঝি ও তার ছেলে সোহেল অনুমতি নিয়ে পতিত জমিতে চাষাবাদ ও ফলজ গাছের বাগান সৃষ্টি করেছেন।
এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।