
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৪৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সরাইল উপজেলায় গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূইঁয়া।
কর্মশালার আলোচনায় বক্তারা তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, গুল-জর্দ্দা ও সিগারেটের মতো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হয়। ধূমপান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, এটি আশেপাশের মানুষের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তামাকজাত দ্রব্যের কোনো ইতিবাচক দিক নেই বরং এটি মানুষের জীবনকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বলেন, সময়ের সাথে সাথে তামাক ব্যবহারের ধরণে পরিবর্তন এসেছে। তবে ধূমপানের ক্ষতি এখনও অপরিবর্তিত। একজন ধূমপায়ী নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি তার আশেপাশে থাকা মানুষরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে এই ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তামাকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিন বলেন, সরকার আইনের মাধ্যমে সিগারেট, জর্দ্দার মতো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে। সরাইল উপজেলা ধূমপান মুক্ত করার লক্ষ্যে এই কর্মশালা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়া কর্মশালায় বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিশুপার্ক ও খেলাধুলার স্থান থেকে একশ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্বারা তামাকজাত দ্রব্য ক্রয় বা সেগুলো ফেরি করে বিক্রি করাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ। ধূমপানের কারণে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ধূমপান বন্ধে জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল হাসান, সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমেদুল কামাল, অরুয়াইল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল হোসেন মৃধা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, কালিকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এবং উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বিউটি বেগম।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এবং তামাক চাষ ও সিগারেট উৎপাদন বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, তামাক চাষ একেবারেই বন্ধ করা প্রয়োজন, যাতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ অভ্যাস থেকে মানুষকে মুক্ত করা যায়।
এই কর্মশালা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সরাইল উপজেলাকে একটি উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।