
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:৫৪

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম রিমন এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রিমন, যিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছেন। এই কারণে ক্ষুব্ধ বিএনপির সাধারণ কর্মীরা এবং এলাকাবাসী তার বহিষ্কারের দাবি তুলেছে।
গত ৫ আগস্ট, রিমনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিপা, তার স্বামী সোহাগ মীর এবং স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল আকন ও হাসান বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার তিন দিন পর, প্রায় তিন লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে রিমন তাদেরকে রাস্তায় চলাচল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়। এ ছাড়াও, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুলের কাঠের ব্যবসা থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত রিমন তাকে কাঠ ট্রাকে তুলতে বাধা দেন।
রিমনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি রিনা বেগমের মেয়ের জামাইকে গরু চোরের নাটক সাজিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিমনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এ কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতারা রিমনের দ্রুত বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু মল্লিক বলেন, "রিমনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফলে সংগঠনের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ শুনেছি এবং আমি নিজেও তার আচরণে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ।"

অন্যদিকে, রিমনের পরিবার এবং আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা যায়। রিমনের ভাই সুমন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার চাচা মহিউদ্দিন আকন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। এমনকি তার চাচাতো ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়রাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত।

রিমনের বিরুদ্ধে মটরসাইকেল চুরি ও হামলার অভিযোগে নলছিটি থানা পুলিশ একবার তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। তৎকালীন নলছিটি থানার এসআই মহিউদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রিমন বলেন, "আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন সংখ্যায় অনেক, কিন্তু ৫ আগস্টের আগে আমাদের সংখ্যা ছিল খুবই কম।"
দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু মল্লিক বলেন, "রিমনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমি উপজেলা বিএনপির নেতাদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি, এবং আশা করি তারা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।"
এমতাবস্থায়, রিমনের চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের কারণে ইউনিয়ন বিএনপি এবং সাধারণ মানুষ তার বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।