
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১:৬

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:** নওগাঁর আত্রাই উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল চকলেট। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য সাবেক এমপি আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল জলিল চকলেট অভিযোগ করেন যে, আলমগীর কবির দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নানা পাঁয়তারা করছেন। তার মতে, আলমগীর কবির বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে আজ সোমবার আত্রাইয়ে একটি পথসভা আয়োজনের চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, আলমগীর কবির বর্তমানে বিএনপির কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত নেই এবং তার এ ধরনের কার্যক্রম দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।
আব্দুল জলিল চকলেট আরও বলেন, আলমগীর কবিরের এই ধরনের পদক্ষেপ দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্যের পরিপন্থী। তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দলের নেতাকর্মীরা এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কার্যকলাপের শিকার হতে দেবেন না। এছাড়াও, তিনি দলের সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কেউ বিভ্রান্তির শিকার না হন এবং দলের মধ্যে একতা বজায় থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন তছলিম উদ্দিন, আব্দুল মান্নান সরদার, যুবদল নেতা খোরশেদ আলম, আশরাফুল ইসলাম লিটন, এবং পারভেজ ইকবাল। তারা সকলেই একমত পোষণ করেন যে, আলমগীর কবিরের বর্তমান কার্যক্রম দলের জন্য ক্ষতিকর এবং তা দলের ভেতর একটি ফাটল সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা সবাই দলের ঐক্য বজায় রাখতে এবং যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দলের ভেতর কোনো ধরনের বিভেদ বা ভিন্নমত পোষণকারীদের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। তারা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দলের স্বার্থে সবাইকে একত্রিত থাকার অনুরোধ জানান।
এদিকে, আলমগীর কবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির স্থানীয় শাখার এই বিভাজনমূলক পরিস্থিতি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং দলীয় নেতারা একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আত্রাই উপজেলা বিএনপির এ ধরনের ঘটনা দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদ এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দলীয় নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
**নাজমুল হক নাহিদ**