ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার জন্য ১৮ দফা দাবি পেশ করে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে কেসি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে এই সম্মেলনটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ হোসেন, কেসি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিমুল আল মাসুদ, সদস্য সচিব মেহেদি হাসান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম নাঈম মাহমুদ, আব্দুর রহমান, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি আমির খানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী ইলমা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ১৮ দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো:
1. শিক্ষার্থীদের জন্য মেধা ও দারিদ্র্য বিবেচনা করে সিট বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।
2. বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করা।
3. ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা।
4. ফাঁকা সিটগুলোতে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা।
5. উন্নয়ন তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এর প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
6. শিক্ষার্থীদের বেতন এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নেওয়া টাকার যথাযথ রশিদ প্রদান করা।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন। তারা দাবি করেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং অনিয়মের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবনকে প্রভাবিত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, যদি তাদের এই ১৮ দফা দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা আগামীতে আরও বড় ধরনের আন্দোলন করার পরিকল্পনা করছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ন্যায়সংগত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। আমাদের দাবিগুলো মেনে না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবো।"