
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:২৭

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ জন। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের ভদ্রঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোকের সঞ্চার করেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন সিরাজগঞ্জ থেকে নলকাগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় এসিআই মিলের সামনে পৌঁছায়। অটোরিকশাটি তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চালকসহ তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রাক্ষবয়রা গ্রামের অটোরিকশা চালক রাসেদুল ইসলাম (৩৫), তাড়াশ উপজেলার ভাটড়া গ্রামের নুরুজ্জামান (৪৫) এবং তারেক রহমান (৩২) এর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা মিলে আহতদের দ্রুত শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটে।”
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানায় যে, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানান্তর করা হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।


স্থানীয়রা জানান, সড়কের ওই এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির পুনর্গঠন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তারা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির কারণে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল, তবে পরে পুলিশ এবং ফায়ার ব্রিগেডের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। এলাকাবাসী এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের আরও সচেতন এবং কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে করে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায় এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।