
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৪, ১৮:২৭

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় কবলিত হয়েছে দেশের ১১টি জেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলায়ও ভারী বৃষ্টি হয়নি। ফলে উজানের নদ-নদীর পানি সমতলে কমছে। অন্যদিকে, আগামী তিন দিনে বৃষ্টিপাত আরও কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস নেই। এ সময় ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার মুহুরী, ফেনী, গোমতী ও হালদা নদীর পার্শ্ববর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানেও ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও ধলাই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী নদীর (বিলোনিয়া-ত্রিপুরা) পানি কমেছে ১৮৩ সেন্টিমিটার। শনিবার সকালে যা বিপৎসীমার ১০১ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছিল। ফেনী নদীতে প্রতি তিন ঘণ্টায় পানি কমছে ১৬ সেন্টিমিটার হারে। গোমতী নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৫১ সেন্টিমিটার। তবে গোমতীতে এখনো বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে সিপাহীজালা (ত্রিপুরা) ২১ মিলিমিটার, টেলিমুরা (ত্রিপুরা) ৭ মিলিমিটার ও কুমারঘাটে (ত্রিপুরা) ৫ মিলিমিটার।
এদিকে শনিবার (২৪ আগষ্ট) সকালে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘আজ খুলনা, বরিশাল, ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।’
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
তিনি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও সমুদ্রের জোয়ারের পানি অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকায় মূলত এ তিন কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির সময় সমুদ্রে লঘুচাপ ছিল। পূর্ণিমা থাকায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সমুদ্রের দুই থেকে তিন ফুট বেশি উচ্চতায় পানি ছিল। জোয়ারের উচ্চতা বেশি থাকায় সামগ্রিক এ তিন কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়।’

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘বৃষ্টিপাত কমে আসার কারণে পানিও সরতে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও কমবে। আজ থেকে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও ২৬ তারিখ কোথাও ভারী বর্ষণ হয়ে ২৭ তারিখ থেকে কমবে বৃষ্টিপাত। বন্যা পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে যাবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় বৃষ্টিপাত এর মাত্রা কমেছে। এ অবস্থায় ২৭ তারিখের পর আরও কমবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। গত ১৬ থেকে ২২ তারিখ সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সীতাকুণ্ডে ৭৫৬ মি.মি, এছাড়া নোয়াখালীর মাইজদী তে ৬০৫ মি.মি এবং কুমিল্লাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ৫৫৭ মিলিমিটার। শ্রেণীর বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র পানির নিচে ডুবে থাকায় গত দুদিনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার আগ পর্যন্ত ৪৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের মাত্রা রেকর্ড করা হয় ফেনীতে।