
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৪, ১৮:৪৮

সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গত ৪ আগস্ট দুপুরে মৌলভীবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা করে শিক্ষার্থীদের আহত করার ঘটনার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাজুদেব রিটন। জানা যায়, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের পরই পশ্চিম ত্রিপুরা বিএসএফ'র হাতে ধরা পড়েন রাজুদেব রিটন ও তার শ্যালক নিলয় দেবসহ আরও পাঁচজন।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিধাইয়ের অন্তর্গত বিওপি হারনাখোলা এলাকায় মোতায়েন বিএসএফ সৈন্যরা সীমান্তের বেড়ার বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করার সময় আটক করে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে ও ত্রিপুরা ট্রিবিউন পত্রিকা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে ও ত্রিপুরা ট্রিবিউন পত্রিকার খবরে বলা হয়, বিএসএফ প্রেস রিলিজ অনুসারে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ এবং ১৯ আগস্ট রাতে মধ্যবর্তী সময়ে, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিধাইয়ের অন্তর্গত বিওপি হারনাখোলা এলাকায় মোতায়েন বিএসএফ সৈন্যরা
সীমান্তের বেড়ার বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করার সময় ৭ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়।এরমধ্যে দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। ওদের মধ্যে একজন মহিলা ও শিশুসহ ৫ জন বাংলাদেশী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে ১.৫ লাখ বাংলাদেশি মুদ্রা এবং ৩০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিএসএফ জানায়। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে নামের একটি গণমাধ্যম এমন খবর প্রকাশ করেছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট ছাত্রজনতার মিছিলে অতর্কিত হামলা করে শিক্ষার্থীদের আহত করার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আবদুল কাদির তালুকদার (২৫) বাদী হয়ে গত ১৪ আগস্ট মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় রাজু দেব রিটন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সদ্যসাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ভানু লালরায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কাউন্সিলর ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসদুর রহমান মসুদসহ মৌলভীবাজারের সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান, নেছার
আহমদসহ ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ৪ আগস্ট দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের চৌমোহনায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে দেশি অস্ত্রসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় গুলিবর্ষণও করা হয়েছে। দেশি অস্ত্র ও গুলিতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ বক্স, মোটরসাইকেল পোড়ানোসহ রাষ্ট্রের লাখ লাখ টাকার সম্পদ ভাঙচুর ও লুটপাট করে ক্ষতিসাধন করা হয়। পুলিশকেও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আটকের ব্যাপারে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জানান, রাজুদেব আটকের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও তথ্য পাইনি। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান। গ্রেফতার দুইজনের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন নাম দেখে পরে বলতে হবে।