
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৪, ২৩:২৮

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহীনা আক্তার।রোববার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে পৃথক প্রজ্ঞাপনে পৌরসভার মেয়র মহসিন মিয়া মধু-কে অপসারণ করা হয়েছে।
পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এতদ্বারা স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা-৪২ক এর উপধারা মোতাবেক পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করা হলো।নিয়োগকৃত প্রশাসকগণ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর ধারা ৪২(ক) এর উপধারা ৩ মোতাবেক পৌরসভার মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
একই দিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়কে অপসারণ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু তালেব-কে উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসকরা নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালীন বিধি মোতাবেক দায়িত্ব ভাতা প্রাপ্য হবেন। এছাড়া অন্য কোনো আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য হবেন না। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১৬ আগস্ট সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান অধিক্ষেত্রে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রাখা ও জরুরি কারণে, সময়ের প্রয়োজনে, জনস্বার্থে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪', ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ ও ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশসমূহের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।
তথ্য বিবরণীতে আরও জানানো হয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করলে সরকার জনস্বার্থে কোনো সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরকে অপসারণ করতে পারবে। একইভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ করতে পারবে। একই সঙ্গে এগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে সরকার।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলররা অনুপস্থিত থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইন সংশোধনের এ উদ্যোগ নেয়া হয়।