
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৪, ৪:১৯

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর করাটা অনেক গর্বের ও আনন্দের বলে মন্তব্য করেছেন জল্লাদ শাহজাহান। এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে আবাসন ও কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শাহজাহান।
একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত কিনা জানতে চাইলে এই জল্লাদ শাহজাহান বলেন, ‘শঙ্কা তো একটু আছেই। অনেকেই এ ব্যাপারে ভালোমন্দ মন্তব্য করেন। তবে আমি কিন্তু পেছনের দিকে তাকাচ্ছি না, কে আমাকে মেরে ফেলবে তা ভেবে। আমি যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর করেছি, এটি অনেক গর্বের এবং অনেক কিছু পাওয়ার। এর জন্য কেউ আমাকে মেরে ফেললেও কিচ্ছু যায় আসে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি হয়তো মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি, তবে যারা স্বাধীন দেশে এসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, যারা একাত্তর সালে এই দেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের হাতে দেশের মা-বোনদের তুলে দিয়েছে, ৩০ লাখ মানুষকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের নিজ হাতে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছি। এর থেকে আনন্দের আর কিছু থাকতে পারে না।’


তবে এত কিছু করেও বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জল্লাদ শাহজাহান। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীসহ স্বজনদের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন মাথা গোজার ঠাঁই ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে দিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
শাহজাহান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছু করেও আজ আমাকে রাস্তায় রাস্তায় থাকতে হচ্ছে, মানুষের দেয়া খাবার খেতে হচ্ছে। আমি তো জানতাম না এত প্রতারকচক্র বাংলাদেশে রয়েছে। আমি যখন জেলে গিয়েছি তখন আমার বয়স ছিল ২২-২৩। ৪৪ বছর কারাবন্দি জীবন কেটেছে। এ সময়ে দেশ অনেক বদলে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুন করে তার নাম যারা এদেশ থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তাদের ফাঁসি আমার নিজ হাতে কার্যকর করেছি। তাই শেখের বেটির (শেখ হাসিনা) কাছে আমার চাওয়া, এই ঘৃণ্য অপরাধীদের ফাঁসি দেয়ার পুরস্কার হিসেবে আমাকে একটি আবাসন ও জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত যেন চলতে পারি- এমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিন।’