
প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৪, ১:৫০

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সরকারি কোয়ার্টারে বরাদ্দ না নিয়ে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন কর্মকর্তাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের অনেকেই।
এছাড়া নামমাত্র ভাড়ায় ডরমেটরি (যৌথ শয়ন কক্ষ) বরাদ্দ নিয়ে পরিবারসহ ফ্যামিলি কোয়ার্টারে থাকেন হাসপাতালের বেশ কয়েকজন নার্স ও ডাক্তার। অধিকাংশই রয়েছেন বিশেষ সুবিধায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফলে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ফলে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেও মূল বেতনের পাশাপাশি তারা বাসা ভাড়া বাবদ নির্ধারিত টাকা পাচ্ছেন।
হাসপাতালের তথ্যমতে, কোয়ার্টারের সাত টি ভবনে ভাড়া থাকার কথা। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরিতে থাকার কথা রয়েছে বেশ কয়েক জনের। অথচ কোয়ার্টার ও ডরমিটরিতে থাকা বিভিন্ন পদের ৪৭ জনের মধ্যে মাত্র কয়েক জন নিয়মানুযায়ী সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়ে বাস করছেন।
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরতদের জন্য ৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতন হলে ৫০ শতাংশ হারে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে ৪ হাজার ৮০০ টাকা, ১৬ হাজার ১ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে ৭ হাজার টাকা এবং ৩৫ হাজার ৫০১ থেকে এর বেশি বেতনের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ হারে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা বাড়িভাড়া দেয় সরকার।

আর ডরমিটরি বাসার (যৌথ শয়ন কক্ষ) ক্ষেত্রে মূল বেতনের ১০ শতাংশ টাকা হারে ভাড়া দিতে হয়। সরকারি বাসা বরাদ্দ নিলে বেতন স্কেল অনুযায়ী বাসা ভাড়া হিসেবে টাকা কাটা হয়।
সরকারি আবাসনের ৭ টি ভবনে দুই ও তিন কক্ষ কোয়ার্টারে কর্মকর্তা, নার্স, মেডিকেল সহকারী, টেকনিশিয়ানসহ ৪৭ জন পরিবার নিয়ে বাস করছেন। এছাড়া ডরমিটরির তিনটি কক্ষে বসবাস করছেন আরও কয়েক জন। অথচ অধিকাংশের নামে সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নেওয়া হয়নি। কিন্তু বরাদ্দ না নিয়েও কোয়ার্টারে থাকা অন্যরা মূল বেতনের সঙ্গে নির্ধারিত হারে বাসা ভাড়া পাচ্ছেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও এর উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক নেতৃত্বে আজ সকালে (৩১ মার্চ ) একটি অভিযান পরিচালনা করেন। দুই একজন ছাড়া কারো কোয়ার্টার থাকার বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি এসময় ।
অভিযান শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মো. সিরাজুল ইসলামেরর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়টি জানতাম না। আমার এখানে আসার বেশি দিন হয় নি। যেহেতু জানতে পেরেছি খুব দ্রুতই এটার ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নিব। সরকারি বাড়িভাড়া না দিয়ে থাকার যে আইন রয়েছে সেই আইনে তাদের বিচার করা হবে।