
প্রকাশ: ২ ডিসেম্বর ২০২৩, ৩:২৬

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী (আন্দিপাড়) শ্বশুরালয় থেকে জান্নাত আক্তার (১৮) নামে এক প্রতিবন্ধী নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নববধূর মৃত্যুতে বাড়ি থেকে পালিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর। শনিবার (২ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ধামতি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ খবর পেয়ে সকাল ১১ টায় সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থা থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে। পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নববধূ জান্নাত আক্তার একই গ্রামের ধামতী (মাদ্রাসা পাড়ার) সাইফুল মিয়ার মেয়ে। গত ৪ মাস পূর্বে ধামতী(আন্দিপাড়) গ্রামের মোঃ আবুল বাশার এর ছেলে সালাহউদ্দিন (২০)'র সাথে পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ হয়।
স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মাস পূর্বে জান্নাত ও সালাউদ্দিনের বিবাহ হয়। জান্নাত জন্ম সূত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধি তার পা একটু বাঁকা ছিল। সেই কারণে বিবাহের সময় দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয় তার পরিবার। কিন্তু সালাহউদ্দিন বউকে পছন্দ করতো না, বিভিন্ন সময় তাঁকে বকাবাধ্য করতো, বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক আনার জন্য মারধর করতো। জান্নাত আক্তার তার বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় সালাহউদ্দিনের বাবা সম্পত্তির লোভে ছেলেকে ওখানে বিয়ে করান। এর আগেও সালাহউদ্দিন আরেকটি বিয়ে করে ১ বছর সংসার করার পর তালাক দিয়ে জান্নাত কে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে। সালাহউদ্দিন পেশায় একজন অটোচালক।


জান্নাতের বাবা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মেয়ের সুখের জন্য বিয়ের সময় বর পক্ষকে ২লক্ষ টাকা দেই। তারপরও মেয়েকে বিভিন্ন সময় বকাবাধ্য ও মারধর করতো। তাই জান্নাত আমাদের বাড়িতে থাকত। গতকাল ১ ডিসেম্বর সালাহউদ্দিন এর বাবা পারিবারিক সমঝোতার মধ্যে দিয়ে রাত ৮ টার সময় পূত্রবধূ জান্নাত আক্তারকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সকালে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। এসে দেখি মেয়ের লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে পা গুলো মাটিতে লেগে আছে। যৌতুকের টাকার জন্যই মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সালাহউদ্দিন ও তার বাবা মোঃ আবুল বাশার সহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।