
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ১:১৭

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভারতীয় বক্তা ব্রাদার রাহুল হোসাইনের আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার আগমন প্রতিহত করতে সোমবার বাদ আছর উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বাজার জামে মসজিদের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ধর্মভীরু তাওহীদি মুসলিম জনতা।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইইম্মাহ পরিষদ, কওমি ওলামা পরিষদ, ইসলামী যুব ও ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নিতে সমবেত হন।
মানববন্ধন আয়োজকদের দাবি ব্রাদার রাহুল ইসলাম ও শরিয়তের ভুল ব্যাখ্যা দেন। বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হওয়ায় ভারতীয় বক্তা ব্রাদার রাহুলকে ভূরুঙ্গামারীতে ঢুকতে না দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
অপরদিকে একটি পক্ষ ওই মানববন্ধনে বাধা প্রদান করেছে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ মানববন্ধন আয়োজকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

জানাগেছে, আহলে হাদিস সম্প্রদায় উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কের পাশে দারুসসুন্নাহ রহমানিয়া সালাফিয়া নামের একটি মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ওই মাদরাসায় ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতীয় বক্তা ব্রাদার রাহুল বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকরী মাওলানা এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ভারতের বিতর্কিত বক্তা ব্রাদার রাহুল বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমদের কাফির ও ফাসিক ফতোয়া দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইসলাম ও মাযহাব নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দেন। তাই ভূরুঙ্গামারীতে তার আগমন ঠেকাতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ মানববন্ধনে বাধা দিয়েছে।
দারুসসুন্নাহ রহমানিয়া সালাফিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা আহলে হাদিস ও সালাফি মতাদর্শে বিশ্বাসী। আমাদের শায়েখরা কুরআন ও সহীহ হাদিসের কথা বলেন। মিলাদ কিয়াম ও পীর-মুরিদে বিশ্বাস নাজায়েজ বলার কারণে একটি পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ভারতের মুর্শিদাবাদের বক্তা ব্রাদার রাহুল ইসলামী সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন এমন খবর পেয়ে একদল মানুষ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এটি ভুল তথ্য। ওই বক্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন না। বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।