
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৩, ০:৩৭

কৃষিনির্ভর জেলা মেহেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে গম চাষ হয়ে আসছিল। উচ্চ ফলনশীল গম চাষে বেশ সাফল্য এসেছিল কৃষকদের। কিন্তু হঠাৎ অজানা এক রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে গম ক্ষেতগুলো। ফলস্বরূপ ফলন বিপর্যয়ে লোকসানের মুখে পড়েন জেলার গম চাষীরা। ২০১৬ সালে মেহেরপুরের গম ক্ষেতে হুইট ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ সনাক্ত করা হয়। তারপর থেকে কৃষকদের গম চাষে নিরুৎসাহিত করে কৃষি বিভাগ।
পরে বেশ কয়েকবছর ধরে মেহেরপুরে কমতে থাকে গম চাষ। বিক্ষিপ্তভাবে কৃষকেরা সামান্য কিছু জমিতে গম চাষ করলে হুইট ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ চরমে দেখা যায় ক্ষেতগুলোতে। চাষিরা প্রতিনিয়ত গম চাষ করে লোকশানের পড়তে থাকে। যারফলে আগ্রহ হারিয়ে বেশ কয়েক মৌসুমে গম চাষ বন্ধ রেখেছিল জেলার অসংখ্য কৃষক। সম্প্রতি সময়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি মৌসুমে ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত বারি-৩৩, ডব্লিউএমআরআই ওয়ান-টু-থ্রী এগুলো চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। মেহেরপুরে ৮ বছরে এখন অনেকটাই নির্মূল হয়েছে গমের হুইট ব্লাস্ট রোগ।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যত বেশি গম উৎপাদন হবে; ততই বেশি আমদানি নির্ভরতা কমবে এমনটাই মনে করছে কৃষি বিভাগ।জেলার গোপালপুর গ্রামের গম চাষী আইয়ুব আলী বলেন, চলতি মৌসুমে এখন পযর্ন্ত গম চাষ করে ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি; তাই খরচের বিপরীতে অধিক লাভবান হওয়ার আশাবাদী আমারা।

গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের গম চাষী বাচ্চু মোল্লা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গমের চেহারা ভালো রয়েছে। রোগবালাই তেমন একটা লাগেনি; অধিক ফলন হবে ধারণা করছি। বতর্মানে জেলার বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে রয়েছে সোনালী রঙের পাকা ও সবুজের মাঝে হলদে বর্ণের গম ক্ষেত। আবার অনেক চাষি আগাম গম চাষ করাই মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। আবার অধিকাংশ গম চাষি অপেক্ষায় রয়েছেন আরও কিছুদিনের।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর কুমার মজুমদার জানান,২০১৬ সাল থেকে জেলায় হুইট ব্লাস্ট শুরু হলে গম চাষ প্রায় বন্ধ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাতের গম চাষ করার জন্য পরামর্শ কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক চাষিরা ব্লাস্ট প্রতিরোধী গমের চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৫ হাজার হেক্টর আবাদ হয়েছে।