
প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০:১৭

খাদ্য শস্যর ভান্ডার দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর হিলি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। তবে বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ, ডিজেল, শ্রমিকসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের বোরো চাষে অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে। মাঘ মাসে নতুন করে শীত পড়েছে দিনাজপুর জেলায়। শীত আর কুয়াশাকে উপক্ষো করেই জমি তৈরি করে তাতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে শুরু করেছেন দিনাজপুরের চাষিরা। শ্রমিকরাও বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হিমসিম খাচ্ছে।
পুরুষের পাশাপাশি মেয়ে শ্রমিকরাও বোরো ধানের রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার তারা বাম্পার ফলন পাবে ও ধানের দাম ভালো পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিবে বলে আশা করছেন তারা। দিনাজপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় বোরো আবোদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমি।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ডেপ, ১২ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসাম এবং ৫ থেকে ৭ ভ্যান গোবর সার মিশিয়ে জমিতে পানি দিয়ে কাদা তৈরি করছেন তারা। পরে বীজতলা থেকে চারা এনে সেই জমিতে রোপণ করছেন। ইতোমধ্যে উপজেলায় প্রায় ৫০- ৬০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

বোরো ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত সময় লাগে ৯০ দিন। কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বোরো চাষিদের খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। গেলো বোরো মৌসুমে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবারও দাম ভালো পাওয়ার আশায় আছেন চাষিরা।
উপজেলার সাতনী গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, আমি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছি। প্রায় জমিতে চারা রোপণ হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ জমিতে চারা রোপণ শেষ হবে। গতবার ফসলের দাম ভালো পেয়েছি। আশা করছি এবারও বোরো ধানের ফলন ভালো হবে। দামটাও ভালো পাবো।

কোকতাড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, হারা ছোট-খাটো কৃষক মানুষ, হামার বেশি আবাদি জমি নাই, মিচ্চে এ্যানা (অল্প) জায়গা আছে, ওটায় আবাদ করি। মানুষোক নিয়ে কাম করে নেউনা, নিজেই সব করি। বছরে ইরি আর আমন ধান লাগাউ, তাতে আল্লাহ দিলে ভালোই আবাদ হয়, ভালোই চলে। এবারও লাগাছি হারা, দেখু কি হয়?
উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের বর্গাচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, হারা গরীব মানুষ নিজের আবাদি জমি নাই বললেই চলে। অন্যর জমি চানা (বর্গা) নেয় ইরি আবাদের জন্য এক বিঘা জমি (৩৩ শতক) দশ হাজার টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে। আবার জমি সেচের বারতি খরচ, সারের দাম, শ্রমিকদের মজুরি বেশি সবকিছু মিলে কি হবে আল্লাহ ভালো জানে! তবে আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং ধানের দাম ভালো পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ!
উপজেলার আলিহাট ইউনিয়ন এর কোকতাড়া গ্রামের বোরো ধানের চারা রোপণ কাজের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে একটা দল তৈরি করেছি। দীর্ঘ দিন থেকে বোরো ও আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকি। এবার বোরো ধানের চারা রোপণ প্রতি বিঘা (৯০০-১০০০) টাকা করে নিচ্ছি। আমাদের দলে এবার এগারো জন লোক কাজ করতেছি। প্রতিদিন (৪-৫) বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতেছি।
উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের খাট্রাউচনা আদিবাসী মহিলা শ্রমিক শাপলা কুজুর বলেন, আমরা প্রতিদিন দিন হাজিরা হিসেবে বোরো ধানের চারা রোপণ করতেছি। প্রতিদিন হাজিরা হিসেবে ৪৫০ টাকা পাচ্ছি।হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১০৫ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আশা করছি ৮ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হবে।
ইতিমধ্যে উপজেলায় ৫০-৬০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা শেষ হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ইতিমধ্যে আমর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করেছি। বোরো ধান চাষে মাঠ পর্যায়ে সাধারণ কৃষকদের সবধরনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীরা। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে আশা করছি এবারও কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। গত বছরের ন্যায় ধানের দাম ভালো পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছি আমরা।