
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ৩:২২

নিখোঁজের ৭ দিন পর কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় উর্মি নামে এক কিশোরির মরদেহ দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার গজারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. রেজাউল করিমের মেয়ে। সোমবার রাত ৯টায় কিশোরীর মরদেহটি দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
মেয়ের বাবা সাবেক মেম্বার রেজাউল করিম জানান, আমার মেয়ে নাবালিকা চলতি বছর এসএসসি পাশ করেছে। তাকে গত ৫ ডিসেম্বর তার স্বামী সিয়াম উর্মীকে তার মামার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে সাড়ে ৮টায় সিয়ামের মা’ ফেরদৌসী বেগম ফোনে জানিয়েছে আমার মেয়ে ডায়েরিয়ায় মারা গেছে। দেবীদ্বার সরকারি হাসপাতালে উর্মীর মরদেহ পড়ে আছে। হাসপাতাল এসে দেখি এ্যাম্ব্যুল্যান্সে আমার মেয়ের মরদেহ। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। তখন ছেলে পক্ষ বিষয়টিকে অস্বীকার করেছিল। পরে জানতে পারলাম সিয়ামের পরিবার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। ওই সময় উর্মীর শারিরীক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে সোমবার তাকে কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে তার মরদেহ দেবীদ্বার সরকারি হাসপাতালে রেখে ওরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহটি পাঠানো হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচর্জ কমল কৃষ্ণ ধর জানান, আমরা সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠাই। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানতে পেরেছি উর্মী গতরাতে বমি ও ডায়েরিয়া জনিত কারনে দেবীদ্বার হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সোমবার সকাল ৯টায় তাকে (উর্মীকে) আশংকাজনক অবস্থায় কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। ওই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ময়না তদন্তের পরই মৃত্যুর কারন নিশ্চিত করা যাবে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের উত্তরপাড়া সোধন ডিলারের বাড়ির ধনু মিয়ার পুত্র মো. সিয়াম (২৩) একই উপজেলার গজারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. রেজাউল করিমের কণ্যা, দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া জাহান উর্মি(১৬)কে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাবে প্রায়ই উত্তক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১১ মাস পূর্বে সিয়াম উর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং বয়স কম থাকায় ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিয়ে হয়।

পরবর্তীতে মেয়ের বাবা জানতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় ছেলের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এরই মধ্যে উর্মী দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়। গত ২২ অক্টোবর রাতে আবারো সিয়াম তার লোকজন নিয়ে উর্মীকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে আসে। ওই ঘটনায় উর্মীর বাবা মো. রেজাউল করিম মেম্বার দেবীদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এক সালিসে মেয়েকে তার বাবার হাতে তুলে দেন।
গত ৫ ডিসেম্বর উর্মীর মামা ধামতী গ্রামের আব্দুল আউয়াল মারা গেলে উর্মী তার মা বাবার সাথে ধামতী গ্রামে যায়্। ওই দিন সন্ধ্যায় মামার বাড়ি থেকে উর্মী নিখোঁজ হয়। উর্মীর বাবা রেজাউল করিম মেম্বার সিয়ামকে অভিযুক্ত করে ২৬ নভেম্বর রাতে দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
উল্লেখ্য গত গত ২৬ নভেম্বর উর্মীর বাবা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় এবং সিয়ামের মানষিক নির্যাতনে ওইদিন রাতে উর্মী হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তাকে সেসময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ্য করে আনার ১৭ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিয়াম জানায়, আমাদের প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। তাকে কে বা কারা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে আমি জানিনা। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল দেখতে আসি।