
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ২:১৯

নওগাঁ শহরে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে জেলা যুবদলের সভাপতি ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ১২জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যমোশাররফ হোসেন শান্ত।
এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন ঝলককে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) ফয়সাল বিন আহসান মাহিন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের আন্তান মোল্লা ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়কে ছাত্রলীগের গাড়ীবহরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা আহত হন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে আহত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোশাররফ হোসেন (শান্ত) বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। মামলায় জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেওয়ান ফারুক ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন বিন ইসলাম (দোহা) সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নূরে আলম মিঠু, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেড এইচ খান মানিক, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান নিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম পবলু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সমাপাদক রুহুল আমিন, স্বাধীন ইসলাম, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান বাদশা ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন ঝলক, জেলা যুবদল সদস্য মিলন হোসেন , সুমন হোসেন, সেকেন্দার আলী এবং মোঃ বাপ্পি। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদিন ঝলক (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।


নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান রেজভী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ২৫-২৬ জন নেতা-কর্মী ১২টি বাইকে বিশ্বকাপ খেলা শেষে আস্তানমোল্লা ডিগ্রি কলেজের সামনে দিয়ে শহরের সরিষাহাটি মোড়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর কতিপয় দুষ্কৃতকারী ককটেল নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোশারফ হোসেন শান্ত আহত হয়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাছিলের জন্য ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই হামলা বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত।
এদিকে এসসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা নিজেরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপির ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। নিজেরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা আমাদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং কেডির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় গতকাল রাতে। আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীরা যাতে অংশ নিতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ‘আস্তান মোল্লা কলেজের সামনে নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের বেশ কয়েক নেতা-কর্মীকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাঁকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।