
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১:৫৭

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গত কয়েক দিনে মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুন। গাংনী মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৫.৩৫হেঃ আয়তনের জলাশয়ে ৩৭১৩ টি পুকুর, ৩টি নদী, ৫টি খাল এবং ৪টি বিল থেকে বার্ষিক মোট মাছ উৎপাদন হয় ৬২২১ মে.টন। তার মধ্যে ৬০৬৬ মে.টন মাছ বার্ষিক মোট চাহিদা পূরণ করে।
গাংনী উপজেলার বাণিজ্য খ্যাত বামন্দী বাজারে (২ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার ঘুরে দেখা যায় বছরের অন্য সময়ের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। মাছের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের ভীড় নেই তেমন একটা মাছ বাজারে। পাঙ্গাস মাছ কেজি প্রতি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা অন্য সময়ে স্বাভাবিক বাজারে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্বাভাবিক বাজারের ৪৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া মাঝারি সাইজের ইলিশ মাছ ৫০০-৭০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাটা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০টাকা কেজি দরে যা স্বাভাবিক বাজারে ১২০টাকা দরে বিক্রি হয়। সিলভার মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, কার্প জাতীয় মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৯০ টাকা পর্যন্ত।
বামন্দী মাছের বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে। মাছের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অনেকেই মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

তবে মাছের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় মৎস্য চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের মৎস্য চাষী আরেজউল্লাহ জানান, মাছের দাম এখন যেমন আছে সেরকম থাকলে আমরা লাভবান হবো। মাছ চাষ খরচ বেড়েছে এবং মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেজন্য মাছের দাম না বাড়লে আমাদের লোকসান হবে।
সহড়াবাড়িয়া গ্রামের নোনার বিল মৎস্য প্রকল্পের মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, বর্তমান বাজারে মাছের দাম খুব একটা বেশি না। মাছ উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুন সেজন্য মাছের দাম বেড়েছে কিছুটা। মাছের দাম এমন থাকলে মৎস্য চাষীরা লোকসান থেকে মুক্তি পাবে।
গাংনী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম খন্দকার জানান, চলতি মৌসুম অনাবৃষ্টি থাকায় খাল-বিলে উৎপাদিত অনেক ধরনের ছোট মাছের সংকট এবং মৎস্য চাষীদের মাছ উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে।