প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২২, ১৭:৮
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিয়ের দাবিতে অবস্থানের পর সালিশের মাধ্যমে ১৫ বছরের নাবালকের সঙ্গে ১৯ বছরের তরুণীর বিয়ে দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১২ আগস্ট) মধ্যরাতের পর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নে তাদের বিয়ে হয়। তবে রোববার (১৪ আগস্ট) রাতে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানান, ওই তরুণীর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে। আর বেলপুকুর ইউনিয়নের চক ধাদাশ গ্রামের লতিফুরের ছেলে সিজানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, তরুণীর খালার বাড়ি চক ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। সেখানে বেড়াতে এলে তরুণীকে দেখে পছন্দ হয় সিজানের ৷ এরপর মোবাইল নম্বর জোগাড় করে তরুণীকে ফোন দেয় সিজান। কথা বলতে বলতে তাদের প্রেম গভীরে পৌঁছে।
ওই তরুণী জানান, সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক তাদের। বিয়ে করবে বলে অনেকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় সিজান। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে কৌশলে সটকে পড়ার চেষ্টা করে সিজান। উপায় না দেখে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সিজানের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, রাত আড়াইটার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে দুই পক্ষের ৫ জন করে মোট ১০ জন জুড়িবোর্ডে যান। ফিরে এসে জুড়ি বোর্ড সিদ্ধান্ত জানান বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লতিফুল। তিনি বলেন, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে এই বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিয়ের চারজন সাক্ষী ও স্থানীয়দের সইয়ের মাধ্যমে বিয়ের কাজ শেষ হয়।
এ বিষয়ে পুঠিয়ার বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থানের কথা জানতে পেরে থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষকে থানায় ডাকাও হয়েছিল। কিন্তু রাতে কেউই আর থানায় আসেনি। পরে কী হয়েছে জানা নেই।