প্রকাশ: ১২ মে ২০২২, ১:১০
নেছারাবাদ উপজেলায় দৈয়ারি ইউনিয়নে স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে অধিকার নিয়ে শশুরবাড়ী ওঠায় শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনের শিকাড় হয়ে মিতু আক্তার(২০) নামে এক গৃহবধূ হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যার পরে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে চিড়াবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনকারি ওই শাশুরির নাম রিনাকা বেগম এবং ননদ অন্যন্যা। ওই গৃহবধূ একই গ্রামের মো: জাহাঙ্গিরের মেয়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গৃহবধূ মিতুর স্বামী মো: লিমন(২৬) ওই গ্রামের প্রবাসী মো: মজিবুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী মিতু হাসপাতালের বেডে বসে অভিযোগ করে জানায়, কলেজে পড়াকালে চিড়াবুনিয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে লিমন তাকে প্রায়ই বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে আমাকে ভয় দেখায়। পরে ভালবেসে তাকে বিয়ে করি। বিয়ের সাত মাস অতিক্রম হলেও সে আমাকে শশুর বাড়ীতে নেয়নি। তবে মাসে চার পাচবার আমার কাছে এসে থাকত। মাসাধিকাল ধরে আমার কাছে না আসায় খোজ নিয়ে জানতে পারি লিমন আরো একটি বিয়ে করেছে। সেই খোজ নিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় শশুর বাড়ী গিয়ে স্বামীর খোজ নিলে শাশুড়ি রিনিকা এবং ননদ অন্যন্যা আমাকে বেধম মারধর করে গলা টিপে সুপারি গাছের সাথে মাথায় আঘাত করে। এসময় নানা শশুর এসে সেও আমাকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করে সজোড়ে থাপ্পড় দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য গহবধূর স্বামী লিমনকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে কথা না বলে কেটে দেয়। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন কেটে দেয়।
মিতুর শশুর বাড়ীর প্রতিবেশি লিলিয়া বেগম বলেন, মিতু গিয়ে তার শশুরের ঘরে ওঠামাত্র তার শাশুড়ি এসে মিতুকে মারতে থাকে। এসময় সে ডাক চিৎকার দিলে তার ননদ অন্যন্যাও ছুটে এসে মিতুকে মারতে মারতে বাড়ীর উঠানে ফেলে দেয়। পরে আমরা কয়েজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
সংরক্ষিত ইউপি সদস্য তারান্নুম আক্তার বলেন, ঘটনা সত্য। মেয়েটা স্বামীর অধিকার নিয়ে শশুর বাড়ী ওঠা মাত্রই তার শাশুড়ি ও ননদ মিলে মিতুকে বেধম মারধর করে শশুর বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এর উচিত বিচার হওয়া দরকার।
দৈয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান মো: জাহারুল ইসলাম বলেন, মেয়েটাকে মারধরের কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে একজন চৌকিদার ও ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নৃপেন মন্ডলকে পাঠিয়ে ছিলাম। মেয়েটার অবস্থা খারাপ শুনে আগে তাকে চিকিৎসার জন্য নেছারাবাদ উপজেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। বর্তমানে সে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।