প্রকাশ: ৪ মে ২০২২, ২৩:৫৬
ঈদের দিন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে শিশু কিশোর যুবক যুবতীসহ নানা বয়সের হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীতে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সকাল থেকে এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমন ঘটতে থাকে। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই ভিড় বাড়তে থাকে সমুদ্র সৈকতে। বাস মাইক্রোবাস প্রাইভেটকার, পিকআপ, মটরসাইকেল ও অটোরিক্সা নিয়ে সৈকতে আসতে থাকে। কোথাও যেন তিল ধারনের ঠাই ছিল না।
আগত এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সমুদ্রে নীল জলে সাতার কাটাসহ প্রিয়জনের সাথে সেফলি তুলে দিনটি উপভোগ করেছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্র ও প্রকৃতিকে। সৈকতে হই হুল্লোড়, ছুটোছুটি, ফুটবল খেলা যেন আনন্দের কমতি ছিল না।
সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা। এ্যাডভেঞ্জার প্রিয় পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ওয়াটার বাইক নিয়ে সমুদ্রে বাইক রাইডিং করে বেড়িয়েছেন।
কুয়াকাটার কুয়া, সৈকতের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলো ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব পর্যটকরা। আবার কেউ কেউ আবার মটরসাইকেল নিয়ে সৈকতের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
তবে ঈদের দিন সমুদ্র সৈকতে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা সহ আশে পাশের এলাকার বলে জানিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি ভিনদেশী পর্যটকদের আগমন এবার ঈদের আমেজে ভিন্নতা যোগ করেছেন। মেঘলা আকাশ ও গুড়ি গুড়ি বৃস্টি উপেক্ষা করে ঈদের প্রথমদিনে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা।
ঈদের প্রথম দিন আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর আশি ভাগ কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে একটানা ৫-৬দিন বুকিং থাকবে বলে জানিয়েছেন হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষ। ১৫ দিন আগে থেকেই অনেকেই অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখে। খাবার হোটেল হোটেল গুলোতেও খাবারের জন্য লাইন পরে যায়। রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মাকের্ট, মিশ্রিপাড়া তাতঁ পল্লী সবখানেই কেনাকাটায় ভীড় লেগে যায়। ফিস ফ্রাইয়ের দোকানেও সিরিয়াল দিয়ে কাকড়া, চিংড়িসহ নানা ধরনের সমুদ্রের মাছের ফ্রাই ও বারবি কিউ খেতে দেখা গেছে।
রমযানের একমাসে পর্যটনমুখী ব্যবসায়িরা অলস সময় কাটিয়েছেন। গত ১ মাসে লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঈদের প্রথম দিনে এমন অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায়িদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। পর্যটন ব্যবসায়িদের মাঝে কর্ম ব্যস্ততা ফিরে এসেছে। আগত এ সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের সতর্কতা ছিল চোখে পড়ার মত।
আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন রমযানের ১ মাস তারা রোজা রেখেছেন। ইচ্ছা থাকলেও ঘর থেক বেড়োতে পারেনি। একটানা ৯ দিনের ছুটি পেয়ে সমুদ্রের পাড়ে অবকাশযাপনে বেড়িয়ে পরেছেন তারা। এমন ভীড় থাকবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এনটাই জানয়েছেন হোটেল মোটেল ব্যবসায়িরা।
আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ঈদের প্রথমদিনেই তার হোটেলের ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন স্থানীয় পর্যটকদের ভীড় থাকবে বেশি। বৃহস্পতিবার থেকে ভিআইপি পর্যটকদের আগমন ঘটবে।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ জানান, এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে প্রখম শ্রেনীর হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর প্রায় ৭০ ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, আগত এসব পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারী থাকবে। পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ, র্যাব মহাসড়কে আগত পর্যটকদের নির্বিঘেœ যাতায়াত নিশ্চিতে টহল থাকবে।