প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ৩:৫৮
ইভ্যালির পাসওয়ার্ডবিহীন লকার ভেঙে মিলেছে মাত্র আড়াই হাজার টাকা। দামি স্বর্ণালঙ্কার তো দূরে থাক পাওয়া গেছে বিভিন্ন ব্যাংকের শতাধিক চেকবই।
এতে হতাশা প্রকাশ করে ইভ্যালির চেয়ারম্যান বলছেন, বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে। এ অবস্থায় ইভ্যালির প্রকৃত সম্পদ এবং পাওনাদারের তথ্য জানতে শিগগিরই অডিটের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া গেটওয়েতে আটকে থাকা ২৬ কোটি টাকা সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা হচ্ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কার্যালয়ে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে দুটি লকার ভাঙা হয়। সেখানে পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের চেকবই, ফাইলপত্র ও আড়াই হাজার টাকা।
ইভ্যালিকাণ্ডে সরকার গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর আলোচনায় আসে অত্যাধুনিক দুটি ভল্ট। বোর্ড সদস্যদের ধারণা ছিল লকার দুটিতে বিপুল অর্থ, দামি স্বর্ণালঙ্কার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। ভল্টের পাসওয়ার্ড পেতে কারাগারে রাসেল দম্পতির সঙ্গে সাক্ষাতও করেন তারা। তারপরও মেলেনি পাসওয়ার্ড।
অবশেষে সোমবার বেলা ৩টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডি কার্যালয়ে লকার ভাঙার সময় ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফসিয়া সিরাত উপস্থিতে ভল্ট দুটি ভাঙা হয়।
লকার থেকে বের করা হয় মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৯৭টি ও সিটি ব্যাংকের ১০টি চেকবই। এ ছাড়া ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কিছু পারিবারিক কাগজ পাওয়া যায়।
এ সময় ইভ্যালির প্রকৃত সম্পদের বিপরীতে পাওনাদারদের সংখ্যা জানতে অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। আর গ্রাহককে সন্তুষ্ট করতে গেটওয়েতে আটকে থাকা ২৬ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে বলে জানান তিনি।
শুধু তাই নয়, অর্থের সংস্থানে ইভ্যালির গাড়িগুলো শিগগিরই প্রকাশ্য নিলামের তোলা হবে। খোজ করা হচ্ছে রাসেল দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পদেরও।
এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, দামি কিছু নেই, সব ফালতু। ভবনটির নিচতলায় ইভ্যালির আরেকটি কক্ষ আছে। সেখানে এরপর যায় দলটি। ঘরটির ভেতরে অসংখ্য কাগজ, খাম, ভিজিটিং কার্ড, ম্যাগাজিন পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে থাকা আরেকটি লকার খোলা শুরু হয় বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে। সাড়ে চারটার দিকে লকারটি খোলা হয়। দ্বিতীয় লকারটি খুলে ২ হাজার ৫৩০ টাকা, ইস্যু করা কিছু চেক, ফাইলপত্র, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ অসংখ্য ব্যাংকের চেক।
লকার খোলার সময় প্রতিষ্ঠানটির চার থেকে পাঁচজন কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। তারা দুজন এখন কারাগারে।
হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১৮ অক্টোবর ইভ্যালির পরিচালনার দায়িত্ব নেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ। ওই পর্ষদ গত তিন মাসে নয়টি বোর্ড সভার পাশাপাশি ইভ্যালির অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে নানামুখী কার্যক্রম নিয়েছে। পর্ষদ এ পর্যন্ত সিটি ও সাউথইস্ট ব্যাংকে থাকা ইভ্যালির দুটি অ্যাকাউন্ট এবং ২৪টি গাড়ি ও ৯টি গুদামের সন্ধান পেয়েছে।