প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০:৪০
‘বাবা হুনছি (শুনছি) য্যার য্যার (যার) ভোট হে হে দেবে, কোন মারামারি হুরাহুরি নাই। বুড়া মানু হাটতে পারি না। নাতি পোতিনরা কোলে কাহে কইরা ভোট দিতে লইয়া আইছে। বয়সতো কম হয়নাই। আবার ভোট দেতে পারি না-না পারি শ্যাষ ভোটটা দিয়া যাই।’ কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকালে ভোটদিতে এসে কথাগুলো বলছিলেন জবুনা খাতুন।
তিনি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি আরও বলেছেন, কয়েক বছর অইল ভোট দেতে আইনাই কারণ আইয়া হুনি আমার ভোট আরাকজনে দেছে। এইবার হগুল্ডি (সবাই) কয় য্যার য্যার ভোট হে দিতে পারবে।
জবুনা খাতুনকে কোলে তুলে নিয়ে আসা নাতী পারভেজ হোসেন বলেন, কাল থেকেই বলছেন আমাকে একটু নিয়ে যাবি? জীবনের শ্যাষ ভোট টা দিয়া আই। পরে তারে নিয়া আসছি।
শুধুই জবুনা খাতুনই নয় এসময় ভোট দিতে এসেছেন সুলতান খাঁ (৫৫) নামের আরেকজন ভোটার। বাতজ্বরে আক্রান্ত সুলতান ক্রেস্টে ভর করে ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বলছেন, “গত বিশ বছরেও এমন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেইনি। প্যারালাইস্ড হইছে ভালোভাবে হাটতে পারিনা। কিন্তু সবাই কয় কোন জই ঝামেলা ছাড়াই কেন্দ্রে ভোট হইতাছে। তাই সকাল সকালই আইয়া পড়ছি। আইয়া এহানের পরিবেশ দেইখাও ভালো লাগছে।
তবে, সুষ্ঠ ভোটগ্রহণে শুধু ভোটারগণই নয়, স্বস্তি ছিলেন প্রতিদ্ব›ন্দ্বী প্রার্থীরাও- উপজেলার কোড়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সাধারণ সদস্য রুহুল কুদ্দুস আকাশ বলেন, ভোট যেভাবে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে গ্রহণ হচ্ছে তাতে আমি শতভাগ বিজয়ের আশাবাদি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যিনি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিড়িয়ে দিছেন। সাধারণ মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন।
রোববার চতুর্থধাপে অনুষ্ঠিতব্য পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চার ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষতার মধ্যদিয়ে শতভাগ ভোটারদের অংশগ্রহণমূলক উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আরএই ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইদুজ্জামান মামুন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরিফ হোসেন (ঘোড়া), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন তালুকদার (মটরসাইকেল), বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম আজাদ (চশমা),
বিদ্রোহী প্রার্থী খলিলুর রহমান হাওলাদার (অনারস) ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আ. হান্নান (হাতপাখা), ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নেÑ আওয়ামী লীগ মনোনীত এবিএম আব্দুল মান্নান (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী বেনজীর আহম্মেদ (আনারস), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. বশির উদ্দিন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল (মোটরসাইকেল), চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নেÑআওয়ামী লীগ মনোনীত মু. জাহিদুর রহমান (নৌকা), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. শাহিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজবাহউদ্দিন মুফতি (আনারস) ও মো. জাকারিয়া (ঘোড়া), চরমোন্তাজ ইউনিয়নেÑ আওয়ামী লীগ মনোনীত একে সামসুদ্দিন আবু মিয়া (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম মোল্লা (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম (ঘোড়া) ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মনিরুজ্জামান (হাতপাখা) ।
এবিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদার বলেন, আমি রাঙ্গাবালী ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের প্রায় সব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছি। নারী পুরুষ বয়স্ক লোকজনের ব্যপক উপস্থিতি রয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠভাবে হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়সহ যারা আছেন সবাই যথেষ্ট অ্যাক্টিভ এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাঙ্গাবালীবাসি একটি অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ, শতভাগ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পেয়েছে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গাবালীর চারটি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩ হাজার ১২৯ জন (পুরুষ ৩১ হাজার ৮৩৭ এবং মহিলা ৩১ হাজার ২৯২) । এরমধ্যে রাঙ্গাবালী ২৩ হাজার ৬৬৮, ছোটবাইশদিয়া ১৬ হাজার ১২৩, চরমোন্তাজ ১৭ হাজার ১৭৭ ও চালিতাবুনিয়া ৬ হাজার ১৬১ জন ভোটার।