প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ৪:০
ইউপি নির্বাচন: রাঙ্গাবালীতে বালাই নেই আচরণবিধির !
নির্বাচনি আচররণ বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চার ইউুনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনি আচরণবিধির কাগজ প্রার্থীদের হাতে হাতে দেওয়া থাকলেও অনেক প্রার্থীই তা মানছেন না। ঘরের দেয়ালে, দোকানের দেয়ালে ও বিদ্যুতের খুঁটিতেও সাঁটানো পোস্টার-লিফলেট। এমনকি স্টিকারগুলো ছেয়ে গেছে মটরসাইকেলগুলোতে ।
আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে উপজেলার চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজ ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। দেখা গেছে, কোথাও চেয়ারম্যান প্রার্থী, কোথাওবা ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত প্রার্থীর পোস্টার-লিফলেট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতঘরেও যত্রতত্র লাগনো হয়েছে। আর মটরসাইকেলগুলোর অধিকাংশতেই স্টিকার লাগানো। কয়েকজন মটরসাইকেল চালক জানায়, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও গাড়িতে পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেখা গেছে, ‘দোকানে পোস্টার লাগানো নিষেধ’ লেখা থাকলেও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরলতার একটি চায়ের দোকানে প্রার্থীদের অনেকগুলো স্টিকার সেখানে লাগানো রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওই চায়ের দোকানি লিমন বলেন, ‘দোকান বন্ধ ছিল তখন লাগাইছে। শুনছি, নির্বাচনী স্টিকার উঠানো নাকি নিষেধ। তাই উঠাইনি।’
অথচ নির্বাচনী আচরণবিধির ৮ অনুচ্ছেদে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ ৮ উপবিধিতে বলা হয়েছে, কোন প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত দেওয়ালে বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ভোট কেন্দ্র ব্যতিত নির্বাচনী এলাকার যে কোন স্থানে পোস্টার, লিফলেট এবং হ্যান্ডবিল ঝুলাইতে বা টাঙ্গাতে পারবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরুতে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে আচরণবিধি না মেনে পোস্টার-লিফলেট লাগানো হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ ডিসেম্বর ছয় প্রার্থীকে শোকজ করার পর ওই এলাকা থেকে পোস্টার-লিফলেট অপসরণ করা হয়। তবে এখনও চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজ ও রাঙ্গাবালীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দেয়ালে লাগানো পোস্টার-লিফলেট এবং মটরসাইকেলে লাগানো স্টিকার অপসারণ হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চরমোন্তাজের চরম-ল লঞ্চঘাটে দেখা গেছে, পন্টুনটি চেয়ারম্যান-সদস্যদের পোস্টার-লিফলেটে ভরে আছে। পোস্টার-লিফলেটের সেই সংখ্যা ১১৬টি। তবে এ প্রসঙ্গে প্রার্থীরা বলছেন, পোস্টার-লিফলেট কিংবা স্টিকার লাগানোর বিষয়টি তাদের অবগত নয়। অতিউৎসাহি কর্মী-সমর্থকদের কাজ এগুলো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদার বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যারা দেওয়ালে পোস্টার-লিফলেট লাগিয়েছে, ওইসব প্রার্থীদের মৌখিকভাবে তা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ না সরায় তাহলে শোকজসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।