প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২১, ০:১১
কুয়াকাটার আলীপুরে সুনীল চন্দ্র দাস (৫৭) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুদেহ দেনাদারের বসবাসরত ঘরের সামনে রেখে পাওনা টাকা আদায়ের দাবি করে আহাজারি করছে তাঁর স্বজনরা। মৃত সুনীল চন্দ্র দাসের পরিবার সূত্রে জানাযায়, স্থানীয় ইউসুফ মুসুল্লীর নিকট থেকে বিগত প্রায় একযুগ আগে ৯ লাখ টাকায় নয় শতক জমি ক্রয় করে বায়না দলিল সম্পাদন করেন সুনীল।
কিন্তু দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও জমি ও জমির দলিল বুঝিয়ে দেয়নি ইউসুফ মুসুল্লী। অথচ গোপনে ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেয় ইউসুফ মুসুল্লী। এরপর থেকে টাকা ফেরৎ চেয়ে আসছিল সুনীল ও তার পরিবার। ইতোমধ্যে সুনীল দাস অসুস্থ হয়ে পড়লে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের বসতঘরে তার মৃত্যু হয়। সৎকারের কাজ সম্পন্ন করার টাকা পর্যন্ত নেই ওই পরিবারের।
ওই পরিবার আরও জানান, মৃত্যুর পরে টাকার জন্য ইউসুফ মুসুল্লীর কাছে গেলে তিনি বলেন, টাকার অভাবে সৎকারের কাজ করতে না পারলে লাশ আমার বাড়ি পাঠাও আমি ব্যবস্থা করব। যেকারণে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মৃত সুনীলের মরদেহ ইউসুফ মুসুল্লীর ঘরের সামনে এনে রাখা হয় সৎকারের কাজ সম্পন্ন করতে তথা পাওনা টাকা আদায়ের দাবীতে। এ সংবাদে আশেপাশের শতশত মানুষ ভীড় করেন এখানে।
খবর পেয়ে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা বিষয়টি সমাধানে তৎপর হন। কিন্তু ইউসুফ মুসুল্লী এবং তার পরিবারের লোকজন ঘর ছেড়ে পালালে প্রায় ছয়ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও কোন সমাধান হয়নি। এব্যাপারে ইউসুফ মুসুল্লী বলেন, সৎকারের জন্য বর্তমানে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করতেছি বাকী টাকা সপ্তাহখানেক পরে দিব।
এব্যাপারে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এব্যাপারে বছর দুয়েক আগে উভয় পক্ষ আমার কাছে আসছিল, সেখানে দেখাযায়, সুনীল নয় লক্ষ টাকা পায়। সে থেকে এক লক্ষ টাকা কমিয়ে আট লক্ষ টাকা পরিশোধ করবে, তার মধ্যে নগদ দিবে এক লক্ষ, বাকী সাত লক্ষ চেকেরে মাধ্যমে পরিশোধ করবে অথচ অদ্য পর্যন্ত সে এক টাকাও দেয়নী।
এব্যাপারে মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার মোঃ আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নী। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।