দেশে করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার সাত জেলাতে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন। সেই সাত জেলার মধ্যে রাজবাড়ীও রয়েছে। লকডাউন মানাতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ কাজ করছে একসাথে। সকাল থেকেই তারা যৌথ ভাবে রাজবাড়ীর বিভিন্ন উপজেলা ও শহরগুলোতে টহল শুরু করেছে।
ভোর ৬ টা থেকে শুরু হওয়া ৭ দিনের এই লকডাউন সফল করতে জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম ও জেলা পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান নিজেরাও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছেন। এছাড়াও ডিসি-এসপি’র নির্দেশে জেলার ৫টি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল লকডাউন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে প্রতিবারের মতো এবারও লকডাউনে প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলছে সাধারণ মানুষ। লকডাউন মানতে তারা নারাজ। প্রশাসনের কোন গাড়ী দেখলেই তারা দ্রুত দৌড়ে পালানো সহ দোকাট বন্ধ করে সটকে পড়ছেন। আবার প্রশাসনের গাড়ী চলে গেলেই তারা দোকানপাট খুলে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করছেন।
মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে সরেজমিন গোয়ালন্দ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের গঠিত একটি টিম লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে। তারা জরুরী ও কাঁচাপণ্য দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন। এছাড়াও দেখা যায় অনেক ব্যক্তিগত গাড়ী তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। জরুরী সেবামূলক যানবাহন ছাড়া কোন যানবাহন তারা রাজবাড়ীতে ঢুকতে ও বাহির হতে দিচ্ছেন না।
বেলা ১২ টার দিকে লকডাউনের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে গোয়ালন্দ মোড়ে আসেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম ও পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান। পরিদর্শনে এসে তারা লকডাউন মেনে চলতে উপস্থিত সবাইকে আহবান জানিয়ে সতর্ক করেন এবং করোনাভাইরাস রোধে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলেন ও বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্যও আহবান জানান।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, জনগণের ভালোর জন্য সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সবার উচিত যার যার জায়গা থেকে আন্তরিকতার সাথে সরকার ঘোষিত সকল নির্দশনা মেনে চলা। আমরা যদি লকডাউন না মেনে বিশৃঙ্খলা ভাবে ঘুরাফেরা করি তাহলে আমাদের সবার জন্যই সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, লকডাউন না মানার কোন সুযোগ নেই। আমাদের নিজেদের জন্যই লকডাউন মানতে হবে। পরিবার ও দেশের কথা ভেবে সরকার ঘোষিত সকল নির্দেশনা আমাদের মেনে চলতে হবে। লকডাউন মানাতে প্রয়োজনে আমরা আরো কঠোর অবস্থানে যাবো। আমরা চাচ্ছি- আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে আমরা সচেতন হয়। আমরা সচেতন হলেই করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব।