প্রকাশ: ২৭ মে ২০২১, ১৭:২২
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বসত ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধ, পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবারসহ গত দু’দিনের জোয়ারে এ ক্ষতি হয়। প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার ২০৮ জন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনের তান্ডবে রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজ, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নে ২ হাজার ৩৪০ টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে পুরোপুরি ক্ষতি হয়েছে ১১০টির। জোয়ারের তোড়ে ৫ হাজার ৫১০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজ ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, জোয়ারে উপজেলার ৮৫০টি পুকুর এবং ২০৮টি মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্য চাষীদের প্রায় ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি বা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ‘ত্রাণ নয়, তারা চান টেকসই বেড়িবাঁধ।’ কারণ লবণ পানিতে লোকালয় সয়লাব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর বেড়িবাঁধের ওপর খুপরি ছাইনিতে বসবাস করছে পাঁচটি পরিবার। তারা বাঁধের ওপর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে শুকনো খাবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কোন খাদ্যসামগ্রী এখনও দেওয়া হয়নি।
#ইনউিজ৭১/এনএইচএস/২০২১